IQNA

ট্রাম্প খুব হতাশ, জেলেনস্কিকে অবশ্যই খনিজ সম্পদের চুক্তি করতে হবে’

0:01 - February 22, 2025
সংবাদ: 3476903
ইকনা- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আবার আলোচনায় বসতে হবে এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে একটি চুক্তি করতে হবে। এমনটাই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালটজ।

মাইক ওয়ালটজ গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন। ওয়ালটজ বলেন, সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অপমান করার কারণে হোয়াইট হাউস ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ‘খুব হতাশ’।

 

গত বুধবার জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদের অংশীদারত্ব দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওই চুক্তি করলে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে মার্কিন সহায়তার ক্ষেত্রটি বিবেচনায় থাকবে। ইউক্রেন বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। 

এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম ও টাইটানিয়াম।

এ ছাড়া আছে কয়লা, গ্যাস, তেল ও ইউরেনিয়ামের মজুদ। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। এর আগে ওয়ালটজ বলেছিলেন, ইউক্রেন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তার খনিজ সম্পদে প্রবেশ করার অধিকার দেয়, তাহলে তাদের মার্কিন সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। অথবা ইতিমধ্যে যে মার্কিন সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে এই চুক্তি।

মাইক ওয়ালটজ আরো বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনীয়দের সত্যিই একটি অবিশ্বাস্য এবং ঐতিহাসিক সুযোগ দিয়েছি। যা ‘টেকসই’ এবং ইউক্রেনের জন্য ‘সেরা’ নিরাপত্তাব্যবস্থা।’ কিন্তু জেলেনস্কি এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি এবং বলেছেন, ‘আমি আমাদের রাষ্ট্রকে বিক্রি করতে পারি না।’

কিয়েভে কিথ কেলোগের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ইউক্রেনীয় নেতা ঘোষণা করেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘একটি বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা চুক্তি’ করতে প্রস্তুত, যা ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করবে। এরপর মাইক ওয়ালটজ হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন।

 

কিয়েভের জন্য কেলোগের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তার মাধ্যমে তাদের চাওয়াগুলো ওয়াশিংটনকে জানাতে পারতেন। এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ও বিশেষ মার্কিন দূত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি, যুদ্ধবন্দিদের ফেরত আনার উপায় এবং কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, কার্যকর বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত।’ বৃহস্পতিবারের পর  জেলেনস্কি জানান, তিনি কানাডা, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছর আগে শুরু হয়, যখন রাশিয়া ইউক্রেনে পুরোদমে আক্রমণ শুরু করে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক মাস ধরে ক্ষমতায় থাকা ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততা আমেরিকার স্বার্থে নয়। তাই তিনি আগের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন।

গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবে রাশিয়ান কূটনীতিকদের সঙ্গে চার ঘণ্টার বেশি আলোচনা করেন। পরে জানান, উভয় পক্ষই আলোচনার প্রাথমিক ধাপে সম্মত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘যুদ্ধ শুরু করেছিলেন’— যা নিয়ে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘মস্কোর তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্যের জগতে বসবাস করছেন।’ তার জবাবে ট্রাম্প তাকে ‘একনায়ক’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের মানুষদের মধ্যে ভলোদিমির জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা কমে গেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

captcha