IQNA

"কারিমা" – এক মহৎ বংশের কন্যা!

15:37 - March 11, 2025
সংবাদ: 3477007
হযরত আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন— "শিয়াদের অন্যতম বড় সৌভাগ্য হলো ইমামবংশীয় মনীষীদের মাজার ও পবিত্র স্থানসমূহ। তাই আমাদের উচিত নয়, এইসব জিয়ারত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা! দেখো, কাওসার (হযরত ফাতিমা যাহরা) কত গভীর প্রভাব ফেলেছেন! যেখানে তাকাও, তাঁরই চিহ্ন দেখতে পাও! মিসরে শায়িত হযরত সাইয়্যেদা নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর কাছে মানুষ মানত করে, আর তাদের হাজত পূরণ হয়!"
আয়াতুল্লাহ আমিনি গোলেস্তানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন—
"যদি কেউ ১১৪ বার দরুদ, ১ বার সূরা হামদ ও ১১ বার সূরা ইখলাস পড়ে হযরত নাফিসা খাতুন (নাতনি> ইমাম হাসান মুজতবা আলাইহিস সালাম)-এর পবিত্র দরবারে উপহার দেয়, তবে সে তার হাজতের আশ্চর্য ফলাফল দেখতে পাবে।"
 
শাইখ মুহাম্মাদ আবুল মাওয়াহিব আশ-শাযলি বলেন—
"আমি নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে স্বপ্নে দেখলাম, তিনি বললেন:
'যদি কোনো হাজত থাকে এবং তুমি পূরণ হতে চাও, তবে হযরত নাফিসা তাহেরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর নামে মানত করো, চাই তা একটুকরো সামান্য ধাতু বা মুদ্রা হোক—তাহলে তোমার হাজত চাওয়া পাওয়া পূরণ হবে।'"
 
কিছু আধ্যাত্মিক মনীষী বলেছেন—
"যদি কেউ কঠিন বিপদে পড়ে এবং হযরত নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর মাজারে গিয়ে একবার সূরা হামদ, ১১ বার সূরা 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' এবং ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করে, আর এর সওয়াব তাঁকে উপহার দেয়, তবে তার সমস্ত সমস্যা দূর হয়ে যাবে।"
 
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা বেহেশতি (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন—
"আমি নিজেও এই মানতের ফল পেয়েছি! সূরা হামদ ১ বার, সূরা ইখলাস ১১ বার, সূরা আ'লা ১১ বার পাঠ করলেই অসাধারণ ফল পাওয়া যায়।"
 
বিশেষজ্ঞদের মতে—
"যে ব্যক্তি তার বৈধ প্রয়োজন পূরণ করতে চায়, সে যেন ১,০০০ বার দরুদ পাঠ করে এবং এর সওয়াব হযরত নাফিসা খাতুন (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর রূহকে উপহার দেয়। কারণ তিনি ছিলেন ইমাম জাফর সাদিক (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্রবধূ এবং এক মহান সতী-সাধ্বী নারী ।"
 
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আহমদ জিবরাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)
এক পরীক্ষিত মানতের কথা উল্লেখ করে বলেন—
"একটি দরুদ পাঠ করে, নিজের হাজত উল্লেখ করুন এবং পুনরায় দরুদ পাঠ করুন। এরপর মানত করুন যে, হাজত পূরণ হলে এক দিরহাম (প্রায় ২.৫ গ্রাম রূপা) কোনো দরিদ্র সৈয়্যেদকে দান করবেন।"
 
আয়াতুল্লাহ ওয়াহিদ খোরাসানি (দামাত বারাকাতুহু)-এর সুপারিশ—
"আয়াতুল্লাহ নজরী খাদেমুশ শরিয়া (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর আরোগ্যের জন্য, একবার কুরআন খতম হযরত নারজিস খাতুন (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর নামে এবং আরেকবার হযরত নাফিসা খাতুন (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর নামে উপহার দিন।"
 
আয়াতুল্লাহ মিসবাহ ইয়াজদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সুস্থতার জন্যও তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন—
"একটি কুরআন খতম হযরত নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর নামে উৎসর্গ করুন। যদি রোগী সুস্থ হন, তবে অবশ্যই এই মানত পূরণ করতে হবে।"
 
মোজতবা এমানি (মিসরে ইরানি দপ্তরের প্রতিনিধি) বলেন—
"অনেক সময় আমরা নিজেদের হাজতের জন্য হযরত নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর দরিদ্রদের জন্য খাবার মানত করতাম, এবং আশ্চর্যের বিষয়, এই মানত খুব দ্রুত কবুল হতো!"
 
"রুয়্যা-হায়ে সাদিকা" (সত্য স্বপ্ন) গ্রন্থের লেখক বলেন—
"আমার এক গুরুতর হাজত ছিল। একদিন আমি ইমাম রেজা (আলাইহিস সালাম)-এর মাজারে গিয়ে, হযরত নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর নামে 'জিয়ারতে জামেয়া কাবিরাহ' পড়লাম এবং উনার কাছে হাজত কবুলের প্রার্থনা করলাম। এরপর বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ ফোন বাজল, আমার স্ত্রী বলল— 'সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে!'"
 
নসীম-হায়ে গিরেহ গোশা (সমস্যা দূর করার পথ)।
 
আজকের পবিত্র দিনে, এই মহান সাধ্বী সৈয়দা হযরত নাফিসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর সম্মানিত দরবারে একটি দরুদ উপহার দিন।
 
captcha