
ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব ছিল এক ঐতিহাসিক, গৌরবময় ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনা, যার নাম ইসলামের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মহান বিপ্লবের স্রষ্টা ইমাম হুসাইন (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নবীজি (সা.) ও তাঁর পিতা আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.)-এর সান্নিধ্যে বড় হন। যদিও তিনি তখন শিশু ছিলেন, তবুও কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় তিনি নবীজির (সা.) পাশে উপস্থিত ছিলেন।
কুরআনের আয়াতসমূহ ও ইমাম হুসাইন (আ.)
কুরআনের কিছু আয়াত সরাসরি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদা তুলে ধরেছে এবং কিছু আয়াত এমন ভাব ও সত্য তুলে ধরে, যার প্রতিফলন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সত্তায় স্পষ্ট।
১. মওয়াদ্দাতের আয়াত
«قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى»
আয়াত:
"বলুন, আমি তোমাদের নিকট আমার রিসালতের জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাই না, শুধুমাত্র আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া।" (সূরা শুরা, আয়াত ২৩)
হাদিসবিদগণ যেমন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইবনে মনযির, ইবনে আবি হাতেম, তাবারানি ও ইবনে মারদুয়ায়হ, ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এই ‘আত্মীয়রা’ কারা?" নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন: "আলী, ফাতিমা ও তাঁদের দুই সন্তান হাসান ও হুসাইন (আ.)।"
২. তাহতীর (পবিত্রতা) আয়াত
«إِنَّما يُريدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً»
আয়াত:
"হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।" (সূরা আহযাব, আয়াত ৩৩)
শিয়া ও সুন্নি উভয় মতের বহু হাদিস থেকে জানা যায়, এই আয়াতে ‘আহলুল বায়ত’ বলতে বোঝানো হয়েছে ফাতিমা, আলী, হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে।
উদাহরণস্বরূপ, নবীজির স্ত্রী উম্মে সালামা বর্ণনা করেন: একবার নবীজি (সা.) ফাতিমা (সা.)-কে বললেন, "তোমার স্বামী ও সন্তানদের আমার কাছে আনো।" তাঁরা এলে নবীজি তাঁদের সবাইকে একটি চাদরের নিচে নিলেন এবং এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
৩. মুবাহালার আয়াত
«فَمَنْ حاجَّكَ فيهِ مِنْ بَعْدِ ما جاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعالَوْا نَدْعُ أَبْناءَنا وَ أَبْناءَكُمْ وَ نِساءَنا وَ نِساءَكُمْ وَ أَنْفُسَنا وَ أَنْفُسَكُمْ...» (آلعمران/۶۱)
আয়াত:
"...তাহলে বলো: এসো, আমরা আমাদের সন্তানদের ও তোমাদের সন্তানদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজদের ও তোমাদের নিজদের ডাকি..." (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১)
মুবাহালার ঘটনায়, যখন নাজরানের খ্রিষ্টানরা নবীজির (সা.) সঙ্গে মুবাহালায় বসে, তখন সিদ্ধান্ত হয় – উভয় পক্ষ পরিবারসহ আল্লাহর কাছে বদদোয়া করবে, যাতে মিথ্যাবাদী পক্ষ প্রকাশ পায়।
বিশ্বস্ত হাদিস অনুযায়ী, এই ঘটনায় নবীজি (সা.) শুধু আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে সঙ্গে নেন।