
ইকনা বার্তা সংস্থা গ্লোবাল নিউজ-এর বরাতে জানায়, ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি কেবেক সিটির একটি মসজিদে চালানো হামলার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে মন্ট্রিয়ালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিহত ছয় মুসলিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা কেবেকে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে বর্ণবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মুসলিম সচেতনতা সপ্তাহের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জাওয়াদ কেননানি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটার আশঙ্কা এখনও রয়েছে।”
মন্ট্রিয়ালে মুসলিম সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারির হামলার বার্ষিকীতে একটি সারারাতব্যাপী স্মরণানুষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আয়োজকেরা জানান, মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে সমাজে যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, তা দূর করতেই এক সপ্তাহব্যাপী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুসলিম সচেতনতা সপ্তাহের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সামিরা লাউনি বলেন, এই বার্ষিক স্মরণানুষ্ঠান নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি মাধ্যম। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের স্মৃতিগুলো জীবিত রাখতে চাই।”
কেননানি আরও জানান, কেবেকের বহু মুসলমান এখনও নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। তিনি বলেন, মন্ট্রিয়ালের শহরকেন্দ্রের একটি মসজিদে তিনি পড়াশোনা করেন, যেখানে নিরাপত্তাজনিত কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দূর থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সহায়তা (এস্কর্ট) ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, “রাস্তায় কার সঙ্গে মুখোমুখি হতে পারি, আমরা কখনোই জানি না। আমাদের সমাজে স্পষ্টভাবে একটি মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে কানাডার ন্যাশনাল কাউন্সিল অব মুসলিমস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন ব্রাউন বলেন, কেবেক সিটির মসজিদে হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এর আগে ধারাবাহিক ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড ঘটেছিল। হামলার আগের মাসগুলোতে কেবেক ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের বাইরে একটি শূকরের মাথা রেখে যাওয়া হয় এবং ‘সোলজারস অব ওডিন’ নামে একটি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী মসজিদ-অধ্যুষিত এলাকায় টহল দিত।
ব্রাউন জানান, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব মুসলিমস কানাডার কাছ থেকে আইনি সহায়তার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, সংস্থাটির আইনি সহায়তা কেন্দ্র গত বছর প্রতি মাসে আগের পুরো বছরের তুলনায় বেশি কল পেয়েছে। সহায়তা প্রার্থীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি আলেকজান্ডার বিসনেট কেবেক সিটির সাঁত-ফোয়া এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে এশার নামাজের সময় প্রবেশ করে মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। এতে ইব্রাহিমা বারি, মামাদু তানো বারি, খালেদ বেলকাসেমি, আবদুল করিম হাসানা, এজ্জেদ্দিন সুফিয়ান ও আবু বকর থাবেতি নিহত হন।
প্রথমে বিসনেটকে ৪০ বছর প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আপিলের পর কেবেকের সর্বোচ্চ আদালত তার প্যারোলের অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ করে। 4331275#