
ইকনা প্রতিবেদন অনুসারে, ফিলিস্তিনি তথ্য কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে—আরব লীগের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই অপরাধ দখলদার কর্তৃপক্ষের পূর্ণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ঘটেছে, যখন বন্দীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “এই অপরাধ ইসরাইলের ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অমানবিক আগ্রাসনের একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত চিকিৎসা অবহেলা, বন্দীদের ওপর চিকিৎসা পরীক্ষার মাঠ হিসেবে ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব। এই পদ্ধতিগত নীতির ফলে কারাগারের ভেতরে এবং মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য বন্দী রোগে আক্রান্ত হয়ে শহীদ হয়েছেন।”
আরব লীগ গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ৬৭ বছর বয়সী শহীদ খালেদ আস-সাইফি বেইত লাহমের ‘দাহিশা’ শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কারাগারের ‘আর-রামলা’ ক্লিনিক থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় শহীদ হন।
বিবৃতি অনুসারে, চার মাসের নির্মম প্রশাসনিক আটকের সময় তিনি সংগঠিত নির্যাতন, অমানবিক আচরণ, ক্ষুধা ও মারাত্মক মারধরের শিকার হয়েছেন। তিনি তীব্র ফুসফুসের প্রদাহে ভুগছিলেন, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এক সন্দেহজনক ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে দুটি ইনজেকশন দিয়েছিল, যা তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন বলে দাবি করেছিল। কিন্তু এই ইনজেকশনগুলো তাঁর শরীরে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
আরব লীগ জোর দিয়ে বলেছে যে, এই পদ্ধতিগত নীতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: “দখলদার শাসক খালেদ আস-সাইফির শাহাদাতের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী। তাঁকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকা অবস্থায় মুক্তি দেওয়া ছিল অপরাধের দায় এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা এবং ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ (এক্সিকিউশন গ্র্যাজুয়েল) নীতির অংশ।”
আরব লীগ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি—নারী, শিশু ও রোগীদের—বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে আটক রাখার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিম্নলিখিত দাবি উত্থাপন করেছে:
১. ইসরাইলি কারাগারগুলোতে লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করতে অবিলম্বে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি প্রেরণ। ২. এসব অপরাধের জন্য দায়ী ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনা। ৩. আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে অসুস্থ বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
বিবৃতির শেষে আরব লীগ ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা আবারও দখলদারিত্বের অবসান এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। আরব লীগ জোর দিয়ে বলেছে যে, বন্দীদের মুক্তির লড়াই একটি আরব ও মানবিক ইস্যু এবং পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এটি অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে থাকবে। 4332337#