
ইকনা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন, আল-তাওয়াসুল সূত্রে: কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে “দৌলাতুত তেলাওয়াত” অনুষ্ঠানের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ও কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত শিক্ষা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক আয়াহ আব্দুর রহমান, এবং শীর্ষ প্রতিযোগী মুহাম্মাদ আল-কুলাজী ও বিলাল সাইফ।
আল-আজহারের আলেম শেখ আশরাফ আল-ফিল এই অনুষ্ঠানে বলেন: “দৌলাতুত তেলাওয়াত অনুষ্ঠান সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি দর্শকদেরকে ৩০-৪০ বছর আগের সেই সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, যখন তারা বিখ্যাত ক্বারীদের তেলাওয়াত শুনতেন এবং সেই স্মৃতি আবার জাগ্রত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন যে অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সুর ও স্বরের সৌন্দর্য। কুরআনের তেলাওয়াত থেকেই সঙ্গীতের মাকামসমূহের উৎপত্তি।
শেখ আল-ফিল বলেন: “আল্লাহ তা’আলা নিজের কণ্ঠে কুরআন জিবরীলকে পড়িয়েছেন, জিবরীল নবীজিকে (সা.) নিজের কণ্ঠে শোনাতেন, আর নবীজি (সা.) নিজের কণ্ঠে সাহাবীদের শোনাতেন। এটিই কুরআনী মাকামের বৈচিত্র্যের প্রমাণ।”
তিনি বলেন: “কুরআন হলো আত্মার খাদ্য। মানুষ পাঁচটি উপাদানে গঠিত—রূহ, নফস, আকল, জিসম ও সঙ্গী (স্ত্রী)। জীবনের রহস্য কেবল আল্লাহ জানেন।”
অনুষ্ঠানে শীর্ষ প্রতিযোগী মুহাম্মাদ আল-কুলাজী কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন: “আমি চার বছর বয়সে কুরআন হিফজ শুরু করি। মিশরের বিভিন্ন শেখ ও উস্তাদের সামনে হিফজ সম্পন্ন করেছি।”
আরেক শীর্ষ প্রতিযোগী শেখ বিলাল সাইফ বলেন: “১৫ বছর বয়সে বেনি সুয়াইফ প্রদেশে হিফজ সম্পন্ন করি। পরে কায়রোতে এসে শীর্ষস্থানীয় উস্তাদদের কাছে কিরাত শিখে আরও উন্নতি করি।”
অনুষ্ঠানে তেলাওয়াত বিভাগের বিচারকরা সাম্প্রতিক পর্বে বিলাল সাইফ ও মুহাম্মাদ হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন যে, তাদের তেলাওয়াতের মান ভবিষ্যতে দুজন মহান ক্বারীর আবির্ভাবের পথ প্রশস্ত করবে।
উল্লেখ্য, “দৌলাতুত তেলাওয়াত” অনুষ্ঠানটি মিশরের ওকাফ মন্ত্রণালয় ও ইউনাইটেড মিডিয়া সার্ভিসেস কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে উচ্চমানের ক্বারী ও প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে প্রযোজিত।
অনুষ্ঠানটি আল-হায়াত, সিবিসি, আন-নাস, মিশর কুরআন কারীম চ্যানেল এবং “ওয়াচ ইট” প্ল্যাটফর্মে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত ৯টায় সম্প্রচারিত হয়।
প্রথম সিজনের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে আগামী ২০২৬ সালের রমজানের প্রথম দিনে। 4333630#