
আল-জাজিরার বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এই ভিডিওতে তাকে বন্দুক হাতে দেখানো হয়েছে এবং এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে দাড়িওয়ালা, টুপি পরা (মুসলিম চেহারার) ব্যক্তিদের ওপর গুলি চালানো দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে «আসাম বিদেশিমুক্ত» এবং «কোনো দয়া নেই» জাতীয় শ্লোগান প্রদর্শিত হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিজেপি-কে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সমালোচনার মুখে দলটি দ্রুত ভিডিওটি সরিয়ে নেয়।
বিরোধী দলের নেতারা এই ভিডিওকে «হত্যার প্রদর্শনী» ও «সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রকাশ্য উস্কানি» বলে অভিহিত করেছেন।
সুপ্রিয়া শ্রীনাতে (তৃণমূল কংগ্রেস) বলেন: এই ভিডিও বিজেপি-র আসল চেহারা প্রকাশ করেছে। তারা গণহত্যাকারী। এই ঘৃণা, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার দায় আপনার, মোদিজি।
ইমরান প্রতাপগড়ি (কংগ্রেস সাংসদ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন: প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছেন। আসলে তিনি সংবিধানের ওপর আক্রমণ করছেন।
আসামে কংগ্রেস ও তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা ভিডিওটিকে «রক্তপিপাসু প্রদর্শনী» বলে অভিহিত করে এবং বিজেপি-কে ঘৃণা ছড়ানোকে স্বাভাবিক করার অভিযোগ তোলেন। সাগরিকা ঘোষ (সাংসদ) বলেন: এই ভিডিও আইনত অপরাধ এবং সহিংসতার সরাসরি উস্কানি। দায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বলছেন: এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং ভারতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও নীতির আরেকটি অধ্যায়। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপি-র এমন অনেক নেতার একজন যারা উচ্চ নেতৃত্বের নীরব সমর্থনে ঘৃণামূলক বক্তব্য দিয়ে যান।
সমালোচকরা বলছেন: ভিডিও প্রকাশ করে পরে নীরবে সরিয়ে ফেলা দলের নৈতিক ও রাজনৈতিক অপরাধকে মুছে ফেলে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আদালতের বিলম্ব—এসবকে তারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার অংশ বলে মনে করেন। 4334086#