IQNA

থাইল্যান্ডে ইসলামী শিক্ষার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে

16:27 - February 13, 2026
সংবাদ: 3478899
ইকনা- তাইল্যান্ডের মুসলিম সমাজ গত কয়েক বছরে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত ও গভীর পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো তাইল্যান্ডকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে যাচ্ছে।

মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, গত তিন মাসে তাইল্যান্ডে ইসলামী শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় ও সীমিত অভিজ্ঞতা থেকে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের স্পষ্ট প্রমাণ। এই প্রক্রিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, ইসলামী কাউন্সিল এবং তাইল্যান্ড সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সমর্থন ও সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে মুসলিম একাডেমিক কাউন্সিল গঠন ৪ ডিসেম্বর ২০২৪-এ ব্যাংককে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত ঘটনা ঘটে: «থাইল্যান্ড মুসলিম একাডেমিক কাউন্সিল» গঠনের ঘোষণা। উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ইসলামী কাউন্সিল (সিআইসি) এবং ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

এই কাউন্সিলের তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা
  • থাইল্যান্ড ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় মানদণ্ড অনুযায়ী বাস্তবায়ন
  • «থাইল্যান্ড ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ২০৩০» নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করা

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবি ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ আরবি ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু। এর লক্ষ্য—মিসরে পড়তে যাওয়ার আগে তরুণদের ভাষাগত ও শিক্ষাগত প্রস্তুতি দেওয়া। অনেক ছাত্র আল-আজহারে ভর্তির সময় ভাষাগত দুর্বলতার কারণে সমস্যায় পড়েন। এই কেন্দ্র সেই সমস্যা সমাধান করবে এবং শিক্ষার্থীদের মান উন্নত করবে।

মুসলিমদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি তাইল্যান্ডে শেখুল ইসলামের ষষ্ঠ বৃত্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ২৭০টি বৃত্তি দেওয়া হবে—যার মধ্যে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায় রয়েছে। এটি শেখুল ইসলামের অফিস ও ব্যাংককের ক্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ। লক্ষ্য—ইসলামী, প্রশাসনিক ও ভাষাগত ক্ষেত্রে মুসলিম যুবকদের উচ্চশিক্ষা প্রদান।

ইসলামী শিক্ষার জাতীয় পুনর্গঠন প্রকল্প এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তাইল্যান্ডে যা ঘটছে তা কেবল বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়—বরং আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিতে ইসলামী শিক্ষা পুনর্গঠনের একটি জাতীয় প্রকল্প। এতে ধর্মীয় নেতৃত্ব, সরকারি সমর্থন এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি উন্মুক্ততা একত্রিত হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতা—কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ভাষা শিক্ষা, দেশীয় বৃত্তি বৃদ্ধি—দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছে। লক্ষ্য—এমন গবেষক ও নেতৃত্ব তৈরি করা যারা তাইল্যান্ড ও অঞ্চলের মুসলিম সমাজকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

তাইল্যান্ডের এই অভিজ্ঞতা ইসলামী শিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তরের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলামী শিক্ষার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 4333691#

captcha