আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সেদেশের সরকার ক্রমাগত বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আরাকান প্রদেশে 'ইসমাইল' ও 'মুহাম্মাদ' নামের ৭ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করছে। এই সাত জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ অজ্ঞাত স্থানে স্থানান্তর করেছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: আরাকান (রাখাইন) প্রদেশের 'কুডু সারাহ' শহরের পুলিশ উক্ত শহরে বসবাসরত সকল রোহিঙ্গা মুসলমানদের উদ্দেশ্য নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য 'ইসমাইল' ও 'মুহাম্মাদ' নামের রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যেন থানায় যোগাযোগ করে।
'কুডু সারাহ' শহরের পুলিশ দাবী করেছে, রোহিঙ্গা কর্মীদের সাথে যে সকল ব্যক্তির যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই ইস্যুর সূত্র ধরে ২৫ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে পুলিশের সদর দফতরে তলব করা হয়েছে এবং তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করা হয়েছে। এই দুটি দলের মধ্যে একটি দলকে মুক্ত করা হয়েছে এবং অপর দলে যাদের অধিকাংশ 'ইসমাইল' ও 'মুহাম্মাদ' নামের এবং বয়স্ক ছিল তাদেরকে হাতকড়া পরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাওলুদ মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের (৭০), মাওলুদ মুহাম্মাদ কাসেম মুহাম্মাদ জলিল (৫১), ইসমাইল এমদাদুল্লাহ (৫৫), ইসমাইল মুহাম্মাদ হোসাইন (৬৫), ইসমাইল ফাজল আহমাদ (৫০), মুহাম্মাদ হোসেন সাইদুর রহমান (৪৯), মুহাম্মাদ কাসেম মাওলুদ মুহাম্মাদ আমিন (৬২) –এই সাত ব্যক্তির নামের মিল এবং তাদের নামের সাথে ইসমাইল এবং মুহাম্মাদ থাকার কারণে মিয়ানমারের পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে স্থানান্তর করেছে।
কয়েক দিন পূর্বে মাংডু শহরের উত্তরে অবস্থিত সামুনা শহরের বৌদ্ধ কাউন্সিল উক্ত শহরে বসবাস করার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করেছে!
মিয়ানমারের রাজ্য আরাকানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি থানায় গত বছরের ৯ম অক্টোবরে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এই হামলায় ৯ জন পুলিশ নিহত হয়। এই ঘটনার পর থেকে সেদেশের উগ্র বৌদ্ধ এবং সেনাবাহিনীরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নৃশংস ও অমানবিক হামলা চালায়। এরফলে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে এবং অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে এসেছে।