
বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: হযরত আবুল ফাজলিল আব্বাস (আ.) ছিলেন আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)'র পুত্র তথা হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আ.)'র সৎ ভাই। ২৬ হিজরির এই দিনে তথা চতুর্থ শা'বান জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসের এই অনন্য ব্যক্তিত্ব। অনেক মহত গুণের অধিকারী ছিলেন বলে তাঁকে বলা হত আবুল ফজল তথা গুণের আধার।
হযরত আবুল ফাজলিল আব্বাসের জীবনের প্রথম ১৪ বছর আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.)'র সান্নিধ্য লাভ করেছেন। নবজাতক আবুল ফজলের ডান ও বাম কানে আযান দিয়েছিলেন তাঁর মহান পিতা আলী (আ.)। তিনি জানতেন এই শিশু ভবিষ্যতে অনন্য বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য খ্যাত হবেন। আর তাই তিনি নবজাতকের নাম রাখেন আব্বাস। এর অর্থ সাহসী ও বীর।
হযরত আবুল ফাজলিল আব্বাসের (আ.) মা উম্মুল বানিন ছিলেন বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের জন্য উতসর্গকৃত-প্রাণ। অন্যদিকে মহানবী (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতও এই মহীয়সী নারীকে অত্যন্ত উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী বলে মনে করতেন।
ক্বামারে বনু হাশিম বা বনু হাশিমের চাঁদ ছিল হযরত আবুল ফজল (আ.)'র আরেকটি উপাধি। কারণ, তিনি দেখতে ছিলেন খুবই সুন্দর, দীর্ঘদেহী ও পবিত্র স্বভাবের। স্বয়ং হযরত আলী (আ.) নিজের শাহাদতের সময় প্রিয় পুত্র আব্বাসকে কাছে ডেকে এনে তাঁকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নেন এবং তাঁর মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন, শিগগিরই কিয়ামত বা পুনরুত্থানের দিনে আমার চোখ তোমার মাধ্যমে উজ্জ্বল হবে।
হযরত ইমাম জাফর সাদিক(আ.) হযরত আবুল ফজল (আ.)'র মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ইমাম হুসাইন (আ.)'র প্রতি অনুগত ছিলেন, আপনি তাঁর সঠিক অবস্থানের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর এই হুজ্জাত তথা নিজ ইমামের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন ও তাঁর কল্যাণকামী ছিলেন। আপনার এতসব কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষার জন্য আল্লাহ আপনাকে শহীদদের মধ্যে স্থান দিয়েছেন এবং আপনার আত্মা বা মন-প্রাণকে সৌভাগ্যবান আত্মাদের সঙ্গী করেছেন।
কারবালার ঘটনায় হযরত আবুল ফাজলিল আব্বাস (আ.)'র অশেষ আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও বীরত্ব তাঁকে পরিণত করেছে এই বিপ্লবের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে এবং খোদায়ী আনুগত্যের অমর প্রতীকে। তিনি ছিলেন কারবালায় ইমামের বাহিনীর অন্যতম প্রধান সেনাপতি ও পতাকাবাহী। শাবিস্তান