IQNA

মুসলিম-বিরোধী ঘৃণা ছড়াতে সক্রিয় গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: গবেষণা

18:11 - November 26, 2017
সংবাদ: 2604407
মুসলিম-বিরোধী ঘৃণা ছড়াতে সক্রিয় গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: গবেষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামাজিক মাধ্যম টুইটার ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম বিরোধী বার্তা ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে মুসলিম বিরোধীদের একটি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: বর্ণবাদ-বিরোদী সংগঠন ‘হোপ নট হ্যাট’ এর নতুন বিশ্লেষণ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলাম পশ্চিমা সমাজের ‘আসন্ন হুমকি’ সম্বলিত বার্তা পাঠানোর জন্য এই নেটওয়ার্ক সমন্বয় সাধন করছে। গেল বছর এসব বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে অনেক মুসলিম-বিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির রেকর্ড করেছে।

‘হোপ নট হ্যাট’ এর গবেষকরা জানায় যে, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধঘোষিত বিতর্কিত মার্কিন অ্যাক্টিভিস্ট পামেলা গেলার ১০২টি বটসের মাধ্যমে মুসলিম বিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেন। স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো যেটি তাদের কন্টেন্টসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় টুইট করে।

গবেষকরা চলতি বছরের মার্চ ও নভেম্বরের মধ্যে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘জনপ্রিয় মুসলিম-বিরোধী’ টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি নমুনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা গড়ে প্রায় ১১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমালোচকরা গেলারকে ইসলামোফোবিক সংগঠনের একটি প্রধান চরিত্র হিসাবে বর্ণনা করে থাকে। জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রতি মাসে গেলারের ভিউয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্য প্রতি মাসে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ তাকে অনুসরণ করেছে।

জিহাদি-বিরোধী ব্লগ ‘ভিয়েনা গেট’কে সমালোচকরা মুসলিম-বিরোধী আধা সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের ম্যানুয়াল হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। একই সময়ে প্রতি মাসে তার ভিউয়ারের সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে।

‘হোপ নট হ্যাট’ এর গবেষক প্যাট্রিক হারমেন্সসন বলেন, ‘টুইটারের অ্যাকাউন্টগুলোর বৃদ্ধি এবং ওয়েবসাইটগুলো মুসলিম বিরোধী ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে যা খুবই বিপজ্জনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনসাধারণের আগ্রহের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটিতে মুসলিম বিরোধী মতের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রতিটি অ্যাকাউন্ট বা সাইটগুলোর ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে আরো অধিক মানুষ গভীরভাবে মুসলিম-বিরোধী মতামত প্রকাশ করছে।’

গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে মুসলিম-বিরোধী অ্যাটিভিস্টরা যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগিয়েছে। হামলা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি প্রখ্যাত মুসলিম-বিরোধী টুইটার অ্যাকাউন্টে তাদের অনুসারীদের সংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ম্যানচেস্টার আক্রমণের পরবর্তী সময়ে ইংলিশ ডিফেন্স লীগের প্রাক্তন নেতা টমি রবিনসনের অনুসারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪০,০৪২ জন অনুসারী বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন। এই অনুসারীদের বেশির ভাগই (২৯,৩৯৬ জন) ওই হামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার অনুসারী হয়।

ওয়েস্টমিনস্টার আক্রমণের পর রবিনসন ২২,৩৬৫ জন অনুসারী অর্জন করেন। চলতি বছরের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সপ্তাহে গড়ে ৬,৪২২ জন্য অনুসারী অর্জন করেন।

গত জুন মাসে লন্ডন ব্রিজ হামলার পর মুসলিম বিরোধীরা কিভাবে সুবিধা নিচ্ছেন-গবেষণায় তার চিত্র ফুটে ওঠেছে। ওই হামলার পর শীর্ষ ১০০ টুইটের মধ্যে ৩২টিতে হামলার বিষয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে টুইট করা হয়েছে।

গবেষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ বেননের পরিচালিত ‘ব্রেইটবার্টে’র বিরুদ্ধে ভুয়া নিউজ ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এতে বলা হয়, ‘ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ব্রেইটবার্টের প্রতিবেদনগুলোতে মুসলমানবিরোধী বিষয় ব্যাপকভাবে আলাদা করা যায়।’ দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে
captcha