IQNA

ইমাম হাসান আসকারীর(আ.) দৃষ্টিতে ইসলামী জীবনধারা

17:02 - November 27, 2017
সংবাদ: 2604419
ইমাম হাসান আসকারীর(আ.) দৃষ্টিতে ইসলামী জীবনধারা
হিজরি আটই রবিউল আউয়াল ইসলামের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর দিন। হিজরি ২৬০ সালের এইদিনে হযরত ইমাম মাহদি (আ.)'র পিতা নবীবংশের নিষ্পাপ ইমাম হযরত হাসান আসকারি (আ.) শহীদ হয়েছিলেন অত্যাচারী আব্বাসীয় শাসকের হাতে মাত্র ২৮ বছর বয়সে।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ইমাম মাহদি (আ.)'র জন্মের পর ইমাম হাসান আসকারি (আ.) মুসলিম সমাজকে ভবিষ্যত নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলার জন্য দিক-নির্দেশনা দেন। এ ছাড়াও ইমাম নানা কুপ্রথা ও ভুল চিন্তাধারা সম্পর্কে মুসলমানদের সন্দেহ দূর করেন এবং খাঁটি মুহাম্মাদি ইসলামের চিন্তাধারা তুলে ধরেন।

ইমাম হাসান আসকারি (আ.) নানা প্রেক্ষাপটে নিজের অনুসারী ও সহযোগীদের চিঠি লিখে দিক-নির্দেশনা দিতেন। কোমের মহান আলেম ও ফকিহ আলী ইবনে হুসাইন ইবনে বাবুইয়েকে লেখা এক চিঠিতে তিনি যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি:

মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম দাতা ও দয়ালু, সব প্রশংসা তাঁর জন্য যিনি সারা জাহানের প্রতিপালক। পরকালের মঙ্গল মুত্তাকি বা খোদাভীরুদের জন্য, বেহেশত একত্ববাদীদের জন্য ও দোযখের আগুন কাফির বা মুর্তাদদের জন্য। প্রকাশ্য শত্রুতা ও যুদ্ধ শুধু জালিমদের জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো উত্তম সৃষ্টিকর্তা নেই। মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের ওপর দরুদ এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তনের পর তোমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি তোমাকে একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক। নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা ও পরহিজগারিতার জন্য তোমাকে আদেশ করছি (কারণ, যাকাত না দিলে তার নামাজ কবুল হয় না)। তোমাকে আরও আদেশ করছি যে মানুষের ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দিবে, নিজের ক্রোধ দমন করবে, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের সুসময়ে ও দুঃসময়ে সহযোগিতা করবে। অজ্ঞ ও মূর্খদের প্রতি নম্র ও সহনশীল থাকবে, সচ্চরিত্রতা, সত কাজের আদেশ ও অসত কাজের নিষেধ করে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন:

একমাত্র যারা মানুষকে সদকা, সত কাজ ও আত্মসংশোধনের আদেশ দেয় তারা ছাড়া বেশিরভাগ লোকের কথায় কোনো মঙ্গল নেই। সব ধরনের অন্যায় ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকবে, তাহাজ্জদ নামাজ পড়বে ঠিক যেমনটি মুহাম্মাদ (সা.) আলী (আ.)-কে তাহাজ্জদ নামাজ পড়ার জন্য জোর দিয়ে বলতেন, আমিও তোমাকে তার ওপর জোর দিচ্ছি। হে আলী তাহাজ্জদ নামাজের প্রতি যত্নবান হও, তাহাজ্জদ নামাজের প্রতি যত্নবান হও, তাহাজ্জদ নামাজের প্রতি যত্নবান হও। যে ব্যক্তি তাহাজ্জত নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেয় না সে আমাদের মধ্যে শামিল নয়। অতএব আমার নির্দেশিকা মত আমল কর এবং ঠিক যেভাবে তোমাকে আমল করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি আমার অনুসারীদেরকেও সেভাবে আমল করতে বল। ধৈর্য ধারণ কর এবং শেষ ইমাম মাহদি (আ.)'র আবির্ভাবের প্রত্যাশায় অধীর অপেক্ষায় থাকবে, এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ আমল হল 'ইমাম মাহদি (আ.)'র জন্য প্রতীক্ষা করা। আমার সন্তান ইমাম কায়েম তথা ইমাম মাহদি (আ.)'র আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত আমাদের অনুসারীগণ দুঃখ বেদনায় নিমজ্জিত থাকবে। এরপর যেমন রাসূল (সা.) সুখবর দিয়েছেন জুলুম নির্যাতনে ভরপুর পৃথিবীকে ইমাম মাহদি ন্যায় বিচার ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করবে।

হে আমার বিশ্বাসভাজন মহান আবুল হাসান, নিজেও ধৈর্য ধর এবং আমার অনুসারীদেরও ধৈর্যের পরামর্শ দাও, আল্লাহর জমিনে তাঁর বান্দাহদেরই রাজত্ব আসবে। পরকালের শান্তি পরহিজগারদের জন্যই। আমার সালাম, আল্লাহর শান্তি ও বরকত আমার অনুসারী এবং তোমার ওপর বর্ষিত হোক।
captcha