ম্যানহাটনে বোমা হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক আকায়েদ উল্লাহ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বার্তা সংস্থা ইকনা: নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার সকালে নিজ হাতে তৈরি ওই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে আহত হয়ে পুলিশের হাতে আটক হন ওই বাংলাদেশি যুবক।
সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আয়োজনে ছিল বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন-বাপা।
জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বাপার প্রেসিডেন্ট লেফটেনেন্ট শামসুল হক বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ এবং জাতিগোষ্ঠির মধ্যেই কিছু বাজে লোক রয়েছে। সেজন্যে ওই সম্প্রদায়ের সবাইকে ‘দুষ্ট’ হিসেবে মনে করার কোনও কারণ থাকতে পারে না। তাই সকলে যেন সতর্কতার সাথে স্বাভাবিক জীবন-যাপন অব্যাহত রাখেন।
বাপা এর সাধারণ হুমায়ূন কবীর বলেন, আকায়েদ উল্লাহ দোষ করে থাকলে নিশ্চয়ই তার কঠোর শাস্তি হবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী। আকায়েদের মতো বাজে লোকদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে সাথে সাথে যেন কাছের পুলিশ স্টেশন অথবা সিটির হটলাইনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ ইয়র্কের সভাপতি কামাল আহমেদ বলেন, এমন আচরণে লিপ্ত কোনও ব্যক্তি আমাদের সমর্থন কখনো পাবে না। আমরা সব সময় ওদের প্রত্যাখান করেছি। আকায়েদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, সে যদি সত্যিকার অর্থেই অপরাধী হয় তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা সকলেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির সাথে জড়িতরা আকায়েদের এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় কোনওভাবেই পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিকে দায়ী মনে করছেন না।
নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেন, আকায়েদের সন্ত্রাসী কর্মের দায় জাতিগতভাবে বাংলাদেশিরা কখনওই নিতে পারে না। সন্ত্রাসীর কোনও জাত, ধর্ম বা গোষ্ঠী পরিচয় নেই। ওরা সন্ত্রাসী, মানবতা ও সভ্যতার শত্রু।
কুইন্স ডিস্ট্রিক পার্টির নেতা অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ এর প্রতি সংঘবদ্ধভাবে ঘৃণা দেখাতে হবে। ওরা বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা মানবতার দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েই থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ইশরাত সামী, মাজেদা এ উদ্দিন, রুহুল আমিন সিদ্দিক, ময়নুল ইসলাম, তারেক হাসান খান, আব্দুর রহিম হওলাদার, আব্দুল হাই জিয়া, কামাল ভূঁইয়া, সিটি মেয়রের প্রতিনিধি সারা সাঈদ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ প্রমুখ। আরটিএনএন