
বার্তা সংস্থা ইকনা: উক্ত শোকানুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। কুরআন তেলাওয়াতের পর ইমাম জাফর সাদিক (আ.)এর জীবনীর আলোকে মূল্যবান বক্তৃতা রেখেছেন জার্মানে অবস্থিত পাকিস্তানের বিশিষ্ট ওলামা সাইয়্যেদ জান আলী শাহ কাজেমী। এছাড়াও তিনি তার বক্তৃতায় সকল কিছুর ঊর্ধ্বে নামাজকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তৃতা শেষে জামাত সহকারে নামাজ এবং পরবর্তীতে আহলে বায়েতের (আ.) শানে মর্সিয়া ও মাতম করা হয়।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) তিরাশী হিজরির ১৭ ই রবিউল আউয়াল পবিত্র মদিনায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) ছিলেন নবী বংশের পঞ্চম ইমাম। পিতার শাহাদতের পর ৩১ বছর বয়সে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) মুসলিম জাহানের ইমামতি বা নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করেন। তিনি ১১৪ হিজরি থেকে ১৪৮ হিজরি পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর হেদায়েতের দায়িত্ব পালন করেন।
ইমাম সাদিক (আ.) ছোটবেলায় প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন নবীবংশেরই আরো দু'জন মহান ইমামের কাছে। এঁদের একজন হলেন পিতা ইমাম বাকের (আ.) এবং অপরজন হলেন দাদা ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)। সাদিক (আ.) তাঁর দাদার ইমামতির দশটি বছর দেখার সুযোগ পান। তাঁর জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা থেকে ইমাম সাদিক (আ.) অনেক কিছু অর্জন করেন। তাঁর পিতা যখন ইমামতির দায়িত্ব পান তখন তাঁর বয়স বারো বৎসর। ফলে পিতার কাছ থেকেও তিনি সার্বিক জ্ঞান লাভের সুযোগ পান। ১১৪ হিজরিতে ইমামতের গুরুদায়িত্ব বাকের (আ.) এর কাঁধে আরোপিত হয়।
অতুলনীয় জ্ঞান, নৈতিক এবং চারিত্রিক মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে জনগণের মাঝে ইমাম সাদিক ( আ. ) এর জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। এতে ভয় পেয়ে গিয়েছিল আব্বাসীয় শাসকরা। জনগণ যেভাবে ইমামের সাহচর্য পিয়াসী হয়ে উঠেছিল, তাতে খলিফা মানসুর ইমামের অস্তিত্বের উজ্জ্বল সূর্যালোক সহ্য করতে পারছিল না। তাই সে চক্রান্ত করে ইমামকে বিষপান করিয়ে শহীদ করেছিল। তাঁর সেই শাহাদাতের বার্ষিকীতে আপনাদের সবার প্রতি রইলো সমবেদনা।
আজ ১১ই অক্টোবর তথা ২৫শে শাওয়াল ইমাম জাফর সাদিক (আ.)এর পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী। ৬ষ্ঠ ইমাম হযরত জাফর সাদিক (আ.)এর পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোক মজলিশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
3340722