IQNA

পরিবর্তন করা হলো কাবা ঘরের পর্দা

22:49 - September 23, 2015
সংবাদ: 3366914
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও জিল হজ মাসের ৯ তারিখ (আরাফার দিনে) সকালে পবিত্র কাবা ঘরের পর্দা পরিবর্তন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: ৯ম জিলহজ তথা আরাফার দিনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পবিত্র কাবা ঘরের পুরাতন পর্দা সরিয়ে নতুন পর্দা লাগানো হয়েছে। ৮৬ জন প্রস্ততকারক এবং শিল্পী পবিত্র কাবা ঘরের পুরাতন পর্দা সরিয়ে নতুন পর্দা লাগিয়েছেন।
কাবা ঘরের পর্দা পরিবর্তন করার অনুষ্ঠানে মসজিদুন নাবী (সা.)এর স্টাফ প্রধানের একটি দল এবং কাবা ঘরের পর্দা নির্মাণ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কাবা ঘরের নতুন পর্দাটি পিওর সিল্ক ও স্বর্ণ দিয়ে কাবা ঘরের পর্দা নির্মাণ কারখানায় নির্মাণ করা হয়েছে। এ পর্দাটি নির্মাণ করতে ২ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়ালের অধিক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ পর্দাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে ৭০০ কিলোগ্রাম পিওর সিল্ক এবং ১২০ কেজি স্বর্ণ ও রুপা ব্যাবহার করা হয়েছে।
১৪ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট পর্দাটির নীচে ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া বিশিষ্ট ঝুলন্ত পার রয়েছে; যা ১৬টি বর্গক্ষেত্র টুকরা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ পারে স্বর্ণ রঙ্গের মাধ্যমে یا حی و یا قیوم»، «یا رحمن و یا رحیم» و «الحمدالله رب‌ العامین লেখা রয়েছে।
পবিত্র কাবা ঘরের পর্দার মোট ৫টি অংশ রয়েছে। কাবা ঘরের প্রতি পাশে একটি করে অংশ এবং পঞ্চম অংশটি পুরো কাবা ঘরকে ঘিরে লাগানো হয়েছে। এ পর্দার ওজন প্রায় ২ টন।
প্রতি বছর যে কোন একটি দেশকে কাবা ঘরের সিল্কের পর্দাটি উপহার দেওয়া হয়।
পবিত্র কাবা ঘরের পর্দা হাতে ও মেশিনে নির্মাণ করতে প্রায় ৮ মাস সময় লাগে।
কাবা ঘরে সর্ব প্রথম পর্দা লাগায় ইয়েমেনের বাদশাহ ‘তাবয় হামিরা’। আব্বাসীর শাসনকালে কাবা ঘরের খাদেমরা কাবা ঘরের অধিক পর্দার ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল যে, অধিক পর্দা ঝুলানোর ফলে কাবা ঘরের ক্ষতি হতে পারে। কাবা ঘরের খাদেমদের অভিযোগ শুনে খলিফা মাহদি আব্বাস কবা ঘরের একটি পর্দা ব্যতীত সকল পর্দা খুলে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং বলেন, প্রতি বছর মাত্র এক বার কাবা ঘরের পর্দা পরিবর্তন করা হবে। তারপর থেকে এ সুন্নত এখনো অতিবাহিত রয়েছে।
3366558
 

captcha