
বার্তা সংস্থা ইকনা: শুক্রবার রাত ২টার দিকে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতে তৈরি বোমার এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে। তবে তাৎক্ষণিক তার নাম-পরিচয় জানানো হয়নি। এছাড়া অবিস্ফোরিত অবস্থায় একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপতাল সূত্র জানায়, বোমায় আহতদের মধ্যে ৬৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এছড়া গুরুতর আহতরা হলেন- আবদুর রহিম (৩০), নাঈম হোসেন (৩৫), লাবনী আকতার (১৪), আয়শা আকতার (১২), সালাউদ্দিন (৪৫), তুহিন (১২), সুদীপ (২১), মাহবুবুর রহমান (২৬), রাকিব হোসেন (২৬) ও আয়াত উদ্দিন (২৬)। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে আহতদের ২০/২৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালে শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। মিছিল শুরুর আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও র্যাকব সদস্যরা হোসেনী দালানের চারপাশ পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে একটি তাজিয়া মিছিল মূল ফটকের ভেতর থেকে দালানের বাইরে বের হচ্ছিল। ঠিক এ সময় পরপর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, আহতদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন সানজু নামে এক যুবক রাত ৩টার দিকে মারা যায়। এ ছাড়া ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়েছে।
চকবাজার থানার ওসি আবদুল আজিজ বলেন, তাজিয়া মিছিলের জন্য শিয়া মতাবলম্বীরা হোসেনী দালানে সমবেত হলে বিস্ফোরণগুলো ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশুরার শোকানুষ্ঠান কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় পালিত হয়েছে।