IQNA

পিতার রিসালাতের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন ফাতিমা (সা)
20:48 - January 05, 2022
সংবাদ: 3471237
তেহরান (ইকনা): তেসরা জমাদিউস সানি বেহেশতি নারীদের সর্দার হযরত ফাতিমা (সালামুল্লাহি আলাইহার) শাহাদত বার্ষিকী।  তাঁর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সবাইকে জানাচ্ছি গভীর শোক ও সমবেদনা এবং বিশ্বনবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ আর সালাম।

হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে: মহান আল্লাহ যদি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)-কে সৃষ্টি না করতেন তাহলে তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না। কেউ কেউ এরই সূত্র ধরে বা এ জাতীয় অন্য বর্ণনার ভিত্তিতে বলেন যে আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলীকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল ও বিশ্বজগতের জন্য মহান আল্লাহর রহমত মহানবী (সা)-কেও সৃষ্টি করতেন না এবং হযরত ফাতিমাকে সৃষ্টি না করলে হযরত আলীকেও সৃষ্টি করতেন না! তাই ঘুরিয়ে বললে এটাও বলা যায় যে হযরত ফাতিমাকে আল্লাহ সৃষ্টি না করলে তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না। 
 
টাকার নোটের মধ্যে যে সুতার মত অংশটি যোগ করা হয় তা না থাকলে যেমন নোট অচল বা মূল্যহীন বলে গণ্য হয় তেমনি ফাতিমা ছাড়া আলী হয়ে পড়তেন অপূর্ণ, আলী ছাড়া মহানবী হয়ে পড়তেন অপূর্ণ ও মহানবী ছাড়া মহান আল্লাহর সৃষ্টি-জগত হয়ে পড়ত অপূর্ণ! 
 
দুঃখজনক হলেও সত্য যে হযরত ফাতিমাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে খুব কম বয়সে এবং আরও বেশি দুঃখজনক হল তার কবরও আজও অচিহ্নিত ও রাতের আঁধারে অত্যন্ত গোপনে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল। 
 
মর্যাদার দিক থেকে মহামানবদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে সমাসীন হযরত ফাতিমা সালামুল্লাহ আলাইহা। অর্থাৎ মহানবী (সা) ও আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলীর পরই তাঁর অবস্থান। অথচ আধুনিক যুগের মুসলিম নারী সমাজেরও এক বিশাল অংশের কাছে হযরত ফাতিমার চেয়ে বস্তুবাদী ও ভোগবাদী পশ্চিমা নারী সমাজই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে! তাদের অনেকেই হযরত ফাতিমার নামে বা তাঁর নানা উপাধির অনুকরণে  নিজ কন্যার নাম রাখতে দ্বিধান্বিত হন। 
 
এমন কোনো নারীর কথা কি কল্পনা করা যায় যিনি তার দুই শিশু-সন্তানসহ তিন দিন ধরে ক্ষুধার্ত হওয়া সত্ত্বেও স্বামীকে খাবার সংগ্রহের কথা বলছেন না ইসলামের জন্য তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ বিঘ্নিত হবে বলে? অথবা এমন নারীর কথা কি চিন্তা করা যায় যিনি পর পর তিন দিন শুধু পানি পান করে রোজা রাখা সত্ত্বেও ইফতারের সময় ক্ষুধার্ত সাহায্যপ্রার্থীকে খাদ্য দেয়ার জন্য সেই তিন দিন কেবল পানি দিয়েই ইফতার করেন?  
 
হযরত ফাতিমা যাহরা  ছিলেন মানবজাতির চিরন্তন গৌরব ও আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার অন্যতম মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপূর্ণতা এবং আদর্শিক শূন্যতা। 
 
হযরত ফাতিমা (আ.) রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর মেয়ে। কিন্তু এর চেয়ে বড় পরিচয় হল হযরত ফাতিমা হলেন বেহেশতের নারীদের নেত্রী এবং মহানবীর পবিত্র আহলে বাইতের শীর্ষস্থানীয় সদস্য। আর এটিই তাঁর আসল পরিচয়।
 
আমরা জানি যে, কেবল আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। যদি নবী-রাসূলগণের স্ত্রী-সন্তানও হয় তবুও না। হযরত নূহ (আ.)-এর স্ত্রী-সন্তান এবং হযরত লুত (আ.)-এর স্ত্রী জাহান্নামবাসী হয়েছে, এটি পবিত্র কুরআনেই বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বনবীর পুত্র সন্তানরা শৈশবেই ইন্তিকাল করায় মক্কার কাফিররা যখন মহানবীকে আবতার বা নির্বংশ বলে বিদ্রূপ করতো তখন মহান আল্লাহ তাঁকে দান করেন হযরত ফাতিমা যাহরা । পবিত্র কুরআনে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে 'কাওসার' হিসেবে যার অর্থ মহত্ত্ব আর নেয়ামতের চির-প্রবহমান ঝর্ণা। 
 
 
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবী হযরত ফাতিমা জাহরা (সা)’র শাহাদাত-বার্ষিকী
 
আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন, হযরত ফাতিমার শানে সুরা কাওসার নাযিল হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, অনেক অত্যাচার সত্ত্বেও হযরত ফাতিমার বংশধারা পৃথিবীতে টিকে আছে, অন্যদিকে বনু উমাইয়্যা ধ্বংস হয়ে গেছে।
 
অবশ্য পরবর্তী যুগে বনু আব্বাসও রাসূলের পরিবারের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছিল। অবশেষে তারাও ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা রাসূলের বিরুদ্ধে কথা বলত তাদের বংশধরদের কোন খবর পৃথিবীর মানুষ জানে না, নেয় না। রাসূলের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেও তারা সফল হয়নি। একের পর এক রাসূলের বংশধরদের শহীদ করা সত্ত্বেও যারা পুত্রসন্তান নিয়ে গর্ব বোধ করত তাদের কোন খবর আজ বিশ্ববাসী জানে না, অথচ রাসূলের বংশধারা হযরত ফাতিমার মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত বজায় থাকবে। এ বংশেই ইমাম মাহদী (আ.) আবির্ভূত হবেন এবং তিনি সারা বিশ্বে আল্লাহর ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। 
 
হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ)  ছিলেন মানবজাতির চিরন্তন গৌরব ও আদর্শ মানুষের প্রতীক। তিনি  ছিলেন মানব জাতির জন্য অসাধারণ ত্যাগ, বিশ্বস্ততা, অন্যায়ের ব্যাপারে আপোসহীনতা, সততা, দানশীলতা, ধৈর্য, চারিত্রিক পবিত্রতা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টিসহ অনেক মহান স্বর্গীয় গুণের আদর্শ। স্নেহময়ী জননীর মত বিশ্বনবীর সেবা-যত্ন করা এবং বিপদের সময় তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য মহীয়সী নারী ফাতিমা'র অন্য একটি উপাধি উম্মে আবিহা বা পিতার জননী। বিশ্বনবী (সাঃ) তাঁকে সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ নারী বলে উল্লেখ করেছেন। রাসুলে খোদা বলেছেন, 'ফাতিমা  আমার দেহের অংশ, যা কিছু তাঁকে সন্তুষ্ট করে তা আমাকে সন্তুষ্ট করে এবং যা কিছু আমাকে সন্তুষ্ট করে তা আল্লাহকেও সন্তুষ্ট করে, আর যা কিছু ফাতিমা কে কষ্ট দেয়, তা আমাকে কষ্ট দেয়, আর যা আমাকে কষ্ট দেয়, তা আল্লাহকেও কষ্ট দেয়।' হযরত ফাতিমা বেহেশতে সর্ব প্রথম প্রবেশ করবেন বলে বিশ্বনবী- উল্লেখ করেছেন।
 
অনেকেই মনে করেন প্রিয় কন্যা ফাতিমাকে নিজের দেহের অংশ বলে মহানবী (সা) এটাও বুঝিয়েছেন যে পিতার রিসালাতের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন ফাতিমা। এই মহীয়সী নারীর অনন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সেবা না থাকলে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যেত। রাসূলের পুত্র সন্তানরা মারা যাওয়ায় ইসলামের শত্রু কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকরা এ নিয়ে ঠাট্টা করত। আস ইবনে ওয়ায়েল রাসূলকে ‘আবতার’ বা ‘লেজকাটা’ তথা নির্বংশ বলে গালি দিত। ফলে মনে মনে খুব কষ্ট পেতেন রাসূলুল্লাহ্ (সা.) । মহান আল্লাহ্ তাঁর এ কষ্ট দূর করার জন্য যে অমূল্য নেয়ামত তাঁকে দান করেন তিনিই হলেন হযরত ফাতিমা (সালামুল্লাহ আলাইহা) । এর প্রেক্ষিতেই পবিত্র কুরআনে সুরা কাওসার নাযিল হয়। মহান আল্লাহ সুরা কাওসারে বরকতময় এই জন্মের সুসংবাদ দেন এভাবে: আমরা তোমাকে কাওসার বা বরকতময় প্রস্রবণ দান করেছি। তাই তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় কর ও কুরবানি দাও। নিশ্চয়ই তোমার শত্রুরাই হচ্ছে নির্বংশ। 
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবী হযরত ফাতিমা জাহরা (সা)’র শাহাদাত-বার্ষিকী
 
মহান আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) তাঁর কন্যা সন্তানের নাম রাখেন ফাতিমা। ‘ফাত্‌ম্‌’ শব্দের অর্থ রক্ষা করা। এ সম্পর্কে মহানবী বলেন : ‘তাঁর নামকরণ করা হয়েছে ফাতিমা। কারণ, আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত রেখেছেন।’
নারীকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তথা সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামিন নামে খ্যাত হযরত ফাতিমা  ছিলেন সব মানবীয় মহৎ গুণের আদর্শ। আর এ জন্যেই তাঁর অনেক উপাধি ছিল। যেমন, আস-সিদ্দিক্বা বা সত্য-নিষ্ঠ,আল-মুবারাকাহ বা বরকতপ্রাপ্ত,আত-ত্বাহিরা বা পবিত্র,আল-মারজিয়া বা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট,  আজ জাকিয়া বা সতী, মুহাদ্দিসাহ বা হাদিসের বর্ণনাকারী,  আজ যাহরা বা দ্যুতিময় ইত্যাদি। 
হযরত ফাতিমা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন তখন তাঁর জ্যোতি আকাশের ফেরেশতা ও অন্যান্যদের দিকে ছড়িয়ে পড়ত। আর এ কারণে তাঁকে যাহরা উপাধি দেয়া হয়।
রাসুল (সা)’র ওফাতের পর তাঁকে সান্ত্বনা দিতে আসতেন ওহির ফেরেশতা।  ওহির ফেরেশতা তাঁকে ভবিষ্যৎ বিষয়ে অনেক কিছু জানান। আর তার থেকে সেসব বিষয় লিখে রাখেন হযরত আলী (আ)। আর এ জন্যই ফাতিমাকে বলা হয় মুহাদ্দিসা।
 
হযরত ফাতিমা সংসারের যাবতীয় কাজ নিজে করতেন। তিনি যাঁতার মাধ্যমে আটা তৈরি করতে করতে তাঁর হাতে ফোস্কা পড়ে যেত। আর সেই আটা দিয়ে রুটি তৈরি করে সেগুলো মদীনার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতেন। হযরত ফাতিমার কাপড়ের পোশাকে থাকতো তালি। পার্থিব কোন বস্তুই তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারত না। আর এজন্যই রাসূল (সা.) তাঁকে ‘বাতুল’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। 
হযরত ফাতিমা কাছে এলে দ্বীনের নবী নিজে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বরণ করে নিজের পাশে বসতে দিতেন। এ থেকে বোঝা যায় ফাতিমাকে সম্মান দেখানোর পেছনে রয়েছে ঐশীলোকের সুস্পষ্ট ইংগিত। হযরত ফাতিমা যাহরা পিতার শারীরিক বিদায়ের কারণে যতটা না দুঃখ পেয়েছিলেন তার চেয়েও বেশি ব্যথা পেয়েছিলেন পিতার আদর্শ তথা ইসলামের শিক্ষা ম্লান ও বিকৃত হয়ে পড়ার কারণে। দুনিয়া থেকে মহানবীর দৈহিক বিদায়ের মাত্র দুই মাস বা মতান্তরে ৯৫ দিন পর শাহাদাত বরণ করেন হযরত ফাতিমা। 
কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী রাজনৈতিক কারণে প্রভাবশালী মহলের হামলায়  হযরত ফাতিমা আহত  হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। 
 
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবী হযরত ফাতিমা জাহরা (সা)’র শাহাদাত-বার্ষিকী
হযরত ফাতিমা সারারাত জেগে নামায পড়তেন, মহান আল্লাহর যিকির করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের জন্য দো‘আ করতেন। তিনি এত বেশি নামায পড়তেন যে, তাঁর পা ফুলে যেত। সংসারের কাজ করার সময়ও তাঁর মুখে আল্লাহর যিকির থাকত।
রাসূলের স্ত্রী হযরত উম্মে সালামাহ্ বলেন : রাসূলের ওফাতের পর ফাতিমাকে দেখতে যাই এবং তাঁর অবস্থা জানতে চাই। তিনি জবাব দিলেন : অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টে দিন অতিবাহিত হচ্ছে।
এ রকম কষ্টের মধ্য দিয়েই রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর ওফাতের অল্প কিছুদিন পরই হযরত ফাতিমা এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। রাসূলে খোদা ওফাতের আগে হযরত ফাতিমার কানে কানে বলে গিয়েছিলেন যে, তিনিই তাঁর সাথে প্রথম মিলিত হবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূলকে এও জানিয়েছিলেন যে, কীভাবে হযরত ফাতিমা তাঁর সাথে এত  তাড়াতাড়ি মিলিত হবেন। আর সেজন্যই রাসূল (সা.) বারবার তাঁর উম্মতকে সতর্ক করছেন যে,তারা যেন হযরত ফাতিমাকে কষ্ট না দেয়,তাঁকে অসন্তুষ্ট না করে। 
 
দ্বিতীয় হিজরীতে হযরত ফাতিমার সাথে হযরত আলীর বিয়ে হয়। অনেক খ্যাতনামা সাহাবী হযরত ফাতিমাকে বিয়ে করার জন্য রাসূলের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের কারও প্রস্তাবই গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, ‘ফাতিমার বিয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশে সম্পন্ন হবে।’ 
 
ফাতিমা (সা আ)র বিয়ের জন্য হযরত আলী (আ)র ঢালকে মোহরানা ধার্য করা হয়। এর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ৫০০ দিরহাম। অবশ্য ফাতিমা জাহরা বাবাকে অনুরোধ করেন যে, তার দেন-মোহরকে কিয়ামতের দিন উম্মতের পাপী বান্দাদের মুক্তির জন্য নির্ধারণ করা হোক। তাঁর এ আবেদন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে বলে ওহির ফেরেশতা জিব্রাইল সুসংবাদ নিয়ে আসেন। 
যে কোনো নারীর জন্য বিয়ের পোশাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হযরত ফাতিমা (সা. আ) একজন দরিদ্র নারীর অনুরোধে নিজের বিয়ের জন্য কেনা পোশাকটি তাকে দান করে দিয়েছিলেন। 
 
রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত ফাতিমার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন: ‘চারজন নারী সমগ্র নারী জাতির মধ্যে সর্বোত্তম : মারইয়াম বিনতে ইমরান, আছিয়া বিনতে মুযাহিম, খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ এবং ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে ফাতিমা।’
ফাতিমা সিদ্দিকা (সা. আ.) ঐশী পন্থায় অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।  ফাদাক ও মানজিল শীর্ষক তাঁর ভাষণ এই মহামানবীর অতুল জ্ঞান, খোদাভীরুতা এবং দূরদর্শিতাকেই তুলে ধরে।
 
নবী-নন্দিনী (সাঃ) বলেছেন, পৃথিবীতে তিনটি জিনিস আমার খুবই প্রিয়। আল্লাহর পথে ব্যয়, রাসূলে খোদা (সাঃ)র চেহারার দিকে তাকানো এবং কুরআন তিলাওয়াত। পবিত্র কুরআনের আয়াত শ্রবণ মুসলমানদেরকে মুক্তির তীরে পৌঁছে দেয়।
ফাতিমা (সা. আ.) রাসূল (সা.)'র উম্মতের উদ্দেশে বলেছেন: আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের জন্য শির্ক হতে পবিত্র হওয়ার ও নামাজকে অহংকার থেকে পবিত্র হওয়ার এবং আমাদের আনুগত্য করাকে ধর্মের ব্যবস্থায় বা ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যম করেছেন, আমাদের নেতৃত্বকে অনৈক্যের পথে বাধা ও আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ইসলামের জন্য সম্মানের মাধ্যম করেছেন। তিনি বলেছেন, নারীদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় হচ্ছে, তারা যেন কোনো অচেনা পুরুষকে না দেখে এবং কোনো অচেনা পুরুষও তাদের না দেখে।
 
ফাতিমা বা তাঁর বংশধরদের কেউই ঐশী সম্মানকে পার্থিব ভোগের কাজে লাগান নি। আত্মত্যাগের বিশালত্বে ফাতিমা এবং তাঁর বংশধররা ইতিহাসে অনন্য। হজরত ফাতিমা(সা)  আদর্শ মানবাত্মার প্রতীক।  তাঁর প্রতি জানাচ্ছি অশেষ দরুদ ও সালাম। ভিন্ন কণ্ঠ: হযরত ফাতিমা  শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি আবারও গভীর সমবেদনা।  পার্সটুডে
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: