IQNA

সাইয়্যেদুশ শোহাদা (আ.)-এর সাথে সামাজিক জীবন/২

ভক্তিমূলক ও আধ্যাত্মিক পদযাত্রা

0:09 - September 20, 2022
সংবাদ: 3472499
ভক্তিমূলক ও আধ্যাত্মিক পদযাত্রা
তেহরান (ইকনা): একজন কুরআন বিশেষজ্ঞ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক যাত্রা হজের মাধ্যমে শুরু হয় বলে উল্লেখ করে বলেন: আরবাইনের পদযাত্রার উৎস হজের মধ্যে নিহিত রয়েনে।

হুসাইনের (আ.) আরবাইন দিবস উপলক্ষে কুরআন বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ জাভেদ বেহেশতীর "সাইয়্যেদুশ শোহাদা (আ.)এর সাথে সামাজিক জীবন" নামক শীর্ষক বৈঠকের দ্বিতীয় অর্ধে বলেন: হজের মাধ্যমে শুরু হয় ভক্তিমূলক ও আধ্যাত্মিক যাত্রা। হজের অনুষ্ঠানে কোনো মন্দা ও স্থবিরতা থাকে না, কারণ প্রথম থেকেই প্রতিটি মানুষকে তার শহর ও দেশ থেকে দূরে সরে যেতে হয়। যখন সেই ব্যক্তি স্টেশনে পৌঁছল যেখানে তাকে ইহরামের পোশাক পরিবর্তন করতে হবে, তখন সে তার মহান আল্লাহকে হ্যাঁ বলবে এবং বলল: লাব্বাইক, হে মহান প্রভু, আমি এসেছি।
যখন একজন ব্যক্তি মক্কা এবং মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন, তখন তিনি হাঁটেন, কাবাকে সাতবার তাওয়াফ করেন, নামাজ পড়েন এবং আবার দুই পর্বতের মাঝখানে সাতবার আসা-যাওয়া করেন, যেমন বিবি হাজেরা তার পুত্র ইসমাইলের জন্য সাফা ও মারওয়া পর্বতে দৌড়ে পানি খোঁজা করেছেন, ঠিক তেমনই এই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আসা-যাওয়া করেন। এটি একটি ভক্তিমূলক পদযাত্রা যা মহান আল্লাহ বায়তুল্লাহ হারামের জিয়ারতকারীদের ও হাজীদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন।
হালক ও তাকসীরের করার পর হাজীগণ ইহরাম থেকে বের হয়ে আবারও যিলহজ্জের অষ্টম দিনে আরাফাত নামক মরুভূমিতে চলে যান।
তারা মহান আল্লাহ ও সত্যকে ভালোভাবে জানার জন্য শহর ও হোটেলের কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে আরাফাত প্রান্তরের বিশুদ্ধ পরিবেশে প্রবেশ করেন। রাতের শেষভাগে হাজিগণ আরাফাত থেকে যাত্রা করে মাশার নামক আরেকটি মরুভূমিতে প্রবেশ করেন। অন্তর্দৃষ্টি খোঁজার জন্য তারা ঈদুল আযহার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মিনা নামক একটি ভূমিতে প্রবেশ করেন। হাজীগণ শয়তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চলেন (নিকটতম শয়তান, মধ্যম শয়তান, দূরের শয়তান, ছোট, মাঝারি এবং বড় শয়তান) এবং তারপরে তারা হালাল চতুষ্পায়ী পশু কুরবানী করেন।
আরবাইনের ঐতিহাসিক পদযাত্রার শিকড় রয়েছে হজের অনুষ্ঠানে। আমাদের মাসুম ইমামগণ (আ.) অনেক বার পায়ে হেটে হজ করেছেন। তাদের সাথে বহন (উট অথবা ঘোড়া) থাক সত্ত্বেও তারা পায়ে হেটে হজ করেছেন, যাতে মহান আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসে তার দরবারে প্রকাশ করতে পারেন। হজ সফরে তারা বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনাকে ভালোবাসি, আমার নিশ্বাস এবং পা পুড়ে গিয়েছে, কিন্তু আমি এখনও আমার ঠোঁটের (তথা জিকির করার) মাধ্যমে তোমাকে স্মরণ করি"। ঠিক তেমনই আরবাইনের পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মহান আল্লাহ ও ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন।

captcha