
ইমাম রেজা (আঃ) বলেন: হজ্জের মাধ্যমে আহলে বাইতের জ্ঞানসমূহ সারা বিশ্বে শেখানো ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
হজে মানুষ আল্লাহর মেহমান। এটি পৃথিবীর প্রথম বিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে; " والأرض بعد ذلك دحاها " অর্থ: এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন। (নাযি’আত, আয়াত: 30)
আল্লাহর ঘর সকল মুসলমানেরা একত্রে ইব্রাহীম (আঃ) এর স্মরণে এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) এর স্মরণে হাজারুল আসওয়াদের উপর নিকট আল্লাহর আনুগত্যের শপথ করেন এবং এর সাথে তারা স্মরণ করেন সর্ব প্রথম সেই তিন জনের জামাতের নামাজের কথা, যারা হচ্ছেন: স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ (সা.), ইমাম আলী (আঃ) এবং হযরত খাদিজা (আঃ)।
হজের সময়, একজন ব্যক্তি মনের শান্তি এবং নিরাপদ এলাকায় মহান আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবস সম্পর্কে চিন্তা করে। তাওয়াফের সময় হাঁটা, দাঁড়ানো এবং নামাযে স্থির থাকা, কাবা দেখা এগুলোর প্রত্যেকটির প্রভাব রয়েছে।
আল্লাহর ঘর এমন একটি স্থান যেখানে অপবিত্র মুশরিকদের প্রবেশের অধিকার নেই। অযোগ্যদের এটি যত্ন নেওয়ার অধিকার নেই।
এটা কারোর সম্পদ নয়, সেখানকার সব মানুষ একই রকম এবং মনে হয় যেন তারা তাদের বাড়িতে এসেছে এবং তাই তারা সেখানে সফররত থাকা অবস্থায়ও চার রাকাত নামায পড়তে পারেন এবং যেন তারা সেখানে মুসাফির নয়।
হ্যাঁ! একজন মুসাফির চারটি স্থানে সফররত থাকা অবস্থায় থাকা সত্বেও দুই রাকাতের স্থানে চার রাকাত নামাজ পড়তে পারেন:
ইবাদতের কেন্দ্র “পবিত্র কাবা শরিফ” (মক্কায়)
নবুওয়াতের কেন্দ্র মদিনায় “হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর হারাম”
বেলায়েতের কেন্দ্র “কুফা মসজিদ”
শাহাদাতের কেন্দ্র “ইমাম হুসাইন (আ.)এর হারাম”
এই চারটি কেন্দ্রে সকল মানুষের পরিচিত এবং তাদের নিজেদের স্থানের মতো। সফরের নামাজ সেখানে পড়ার প্রয়োজন নেই। এই কেন্দ্রসমূহ সকলের বাড়ি এবং সেখানে তারা চার রাকাত করে নামাজ আদায় করতে পারবে।
পবিত্র কাবা ঘর আমাদের কেবলা এবং প্রকৃত কেবলা। সেখঅনে হাজার হাজার নবী নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে একটি নামাজ কবুল হওয়ার অর্থ হচ্ছে তার জীবনের সকল নামাক কবুল হওয়া
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, মক্কা এমন একটি স্থান যেখানে যে কেউ খারাপ কাজ করবে, তাকে বেদনাদায়ক ঐশ্বরিক শাস্তি দেওয়া হবে।
ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) মহান আল্লাহর নির্দেশে এটিকে দূষণ থেকে পরিষ্কার করেছিলেন।
সেখানে, এটি বেলায়েত এবং সম্পর্কচ্ছেদের প্রকাশস্থান, এমনকি সেখানকার পাথরগুলিও অন্য সব জায়গা থেকে আলাদা। আমরা একটি পাথর চুম্বন করি, ``কাবার পাথর'' এবং তাওয়াফ করি, কিন্তু আমরা অন্য স্থানে ছোড় পাথর নিক্ষেপ করি। হ্যাঁ, একটি হচ্ছে ‘বেলায়েতের পাথর’ আর অন্যটি ‘সম্পর্কচ্ছেদের পাথর’!
মসজিদুল হারাম; একটি মসজিদ যার বিশেষ সম্মান রয়েছে। এর প্রকৌশলী হলেন আল্লাহ, এর স্থপতি হলেন ইব্রাহীম -আলাইহিস সালাম- এর কারিগর হলেন ইসমাইল -আলাইহিস সালাম- এর মূর্তি ভঙ্গকারী হলেন আলী -আলাইহিস সালাম-, এর ইমাম হলেন মুহাম্মাদ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-, এর নেত্রী হলেন হযরত খাদিজা (সা. আ.) , এর মুয়াজ্জিন হচ্ছেন হযরত বিলাল (রা.) এবং এর পানি যমযম।
এর পাশেই রয়েছে সাফা, মানুষের প্রচলন, নবীদের (আ.) কবরস্থান, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিরাজের স্থান, এবং গুনাহগারদের জন্য তাওবার স্থান!
সেখানে প্রবেশ করার জন্য, আমরা চারবার স্নান করি:
একবার ঐ এলাকার বাইরে থেকে ইহরাম বাঁধার জন্য
একবার নিরাপদ অঞ্চলে প্রবেশের জন্য
তৃতীয়বার মক্কায় প্রবেশ করার জন্য
চতুর্থবার মসজিদুল হারামে প্রবেশ করার জন্য
হে আল্লাগ, এটা কোথায় যে যেখানে যাওয়ার জন্য আমাদের চারবার ধৌত করতে হবে এবং এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য কীসের জন্য?
মক্কা ‘ভৌগোলিক’ নয়, ‘ইতিহাস’। এটি "পৃথিবী" নয়, এটি "সময়"।
এর প্রবেশদ্বার বন্ধ এবং সীমিত নয়, এর যে কোনও দিক থেকে প্রবেশ করা যেতে পারে, তাই বেশ কয়েকটি মিকাত রয়েছে।