
জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা ২ লাখ থেকে ৩.৫ লাখের মধ্যে অনুমান করা হয়। বর্তমানে দেশজুড়ে মাত্র ১০টি কবরস্থান রয়েছে যেখানে ইসলামী নিয়মে দাফন সম্ভব। এর ফলে অনেক পরিবারকে মৃতদেহ দূরবর্তী স্থানে বা বিদেশে নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য।
গত বছর মিয়াগি প্রদেশে মুসলিমদের জন্য পৃথক কবরস্থান নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় বিক্ষোভের মুখে বাতিল করা হয়। প্রদেশের গভর্নর যোশিহিরো মুরাই প্রকল্পটি স্থগিত করেন। মুসলিম সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্তকে মৌলিক মানবাধিকারের উপর আঘাত হিসেবে দেখছে, কারণ ইসলামে মৃত্যুর পরও ধর্মীয় রীতি পালনের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিতর্ক সম্প্রতি জাপানের পার্লামেন্টে উঠে এসেছে এবং জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কনজারভেটিভ সানসেইতো পার্টির প্রভাবশালী সদস্য মিজুহো উমেমুরা ঘোষণা করেছেন যে, জাপানের কোনো নতুন কবরস্থানের প্রয়োজন নেই এবং মৃতদেহ দাহ করাই দেশের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি মুসলিমদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, তারা হয় দাহ করার প্রথা গ্রহণ করুন অথবা মৃতদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠান।
উমেমুরার এই বক্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা এটিকে ইসলামী কবরস্থান সম্প্রসারণের পথ বন্ধ করার সরকারি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। কয়েকজন সংসদ সদস্য তার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, জমির অভাবে জাপান নতুন সাংস্কৃতিক বোঝা বহন করতে পারবে না।
মুসলিম অ্যাকটিভিস্টরা জোর দিয়ে বলছেন যে, তাদের দাবি জাপানের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করবে না। পরিবেশগত উদ্বেগগুলো প্রযুক্তিগতভাবে সমাধানযোগ্য, যেমনটি অনেক দেশে সফলভাবে করা হয়েছে। তারা এই ইস্যুকে জাপানের বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক সরকারি বক্তব্যে বৈচিত্র্যের সমর্থন এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ফারাক প্রকাশ করছে। জাপান যত বেশি বৈচিত্র্যময় হচ্ছে, ততই এ ধরনের ইস্যু স্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
মুসলিম সম্প্রদায় তাদের মৃতদের মর্যাদাপূর্ণ দাফনের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং এটিকে সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি জাপানের প্রতিশ্রুতির আসল পরীক্ষা বলে মনে করছে। 4322127#