
ইকনা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন, ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা সাফা সূত্রে: ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী জেরুজালেমের পুরনো শহরের বাবুস সিলসিলা এলাকায় মসজিদুল আকসার আশপাশের ফিলিস্তিনি বাড়ি-জমি ও সম্পত্তি জবরদখলের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে “ঔপনিবেশিক উস্কানিমূলক বিপজ্জনক পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো জেরুজালেমের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বিতাড়িত করা এবং মসজিদুল আকসার আশপাশে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করা।
এই সিদ্ধান্ত অনুসারে, “জেরুজালেমে ইহুদি পাড়া উন্নয়ন” নামক একটি কোম্পানিকে এলাকাটির পূর্ণ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা জমি দখল ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাতে পারে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৮ সালের (১৩৪৭ হিজরি) জমি জবরদখল সংক্রান্ত রেজোলিউশন পুনরায় কার্যকর করার অংশ। এটি “নিরাপত্তা জোরদার ও ইহুদিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা”র মিথ্যা অজুহাতে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনায় বাবুস সিলসিলা পথের আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আইয়ুবী, মামলুক ও উসমানী যুগের ইসলামী ওয়াকফ ও ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাবুস সিলসিলা মসজিদুল আকসায় যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রবেশপথ। এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা দখলদার শাসকগোষ্ঠীর একটি পদ্ধতিগত নীতির অংশ, যার উদ্দেশ্য পবিত্র স্থানের আশপাশ থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করা এবং পুরনো শহরে ইহুদিকরণের নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া। এই এলাকায় ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ “মাদরাসা তাশতামুরিয়া”সহ বেশ কয়েকটি ইসলামী স্থাপনা রয়েছে।
ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে “জনস্বার্থের” অজুহাতে পুরনো শহরের প্রায় ১১৬ দোনম (১১.৬ হেক্টর) জমি জবরদখল করেছিল। এর ফলে ইহুদি পাড়াটি ১৯৪৮ সালের ৫ দোনম থেকে বর্তমানে ১৩৩ দোনমে (১৩.৩ হেক্টর) বিস্তৃত হয়েছে, যার অধিকাংশই ফিলিস্তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবরদখল করে করা হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের জেরুজালেম-সংক্রান্ত প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা জাতিসংঘ, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা জেরুজালেমের পুরনো শহর ও মসজিদুল আকসার আশপাশে ইহুদিকরণ ও ফিলিস্তিনি সম্পত্তি জবরদখলের নীতি বন্ধে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে। 4352769#