ইকনা’র বরাত দিয়ে আল-উম্মাহ ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যাজনিত মানবিক সংকট মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে আবারও আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যখন একটি হিন্দু গোষ্ঠী হিন্দু বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, বন্যাকবলিতদের জন্য ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনগুলোর দেওয়া মানবিক সাহায্য তারা প্রত্যাখ্যান করুক।
এই আহ্বান ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং কর্মী ও রাজনীতিবিদরা একে মানবিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ তৎপরতায় ধর্মীয় বিভেদ ঢোকানোর প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন।
এই ঘটনাগুলো ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই ঘটছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণা প্রচার, ধর্মীয় মেরুকরণ, গণ-সহিংসতা এবং বৈষম্যের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, আসামের একটি হিন্দু সংগঠন হিন্দু বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি বদরুদ্দিন আজমলের দেওয়া সাহায্য তারা গ্রহণ করবেন না। অথচ তিনি ত্রাণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং বন্যাকবলিতদের আর্থিক, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন।
এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন সরকারি উদ্ধারকারী দল, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজ করছে। একইসঙ্গে মানবিক সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সহযোগিতা প্রয়োজন।
হিন্দু চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর এই আহ্বান সমাজনেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, মানবিক সাহায্যকে ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা সামাজিক সংহতিকে হুমকির মুখে ফেলে এবং প্রয়োজনীয়দের সাহায্য পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে।
কর্মীরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মানবিক কাজ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপার্থক্য থেকে মুক্ত থাকা উচিত এবং দুর্যোগের সময় সবার আগে মানুষের জীবন বাঁচানো ও ক্ষতিগ্রস্তদের বৈষম্যহীনভাবে সহায়তা দেওয়াই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পর ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রয়েছে, যার জনসংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো মুসলিমদের লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ঘৃণা প্রচার এবং কিছু নীতি ও অনুশীলনে বৈষম্যের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও দেশটিতে সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।4368072