
বার্তা সংস্থা ইকনা : মিয়ানমারের নৌবাহিনীর বাধার কারণে উদ্ধারকৃত অভিবাসন-প্রত্যাশীদের ধারে কাছেও যেতে পাচ্ছে না সাংবাদিকেরা। রোববার ইরাবতি নদীর মোহনায় ‘থামি হিলা’ দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল একদল সাংবাদিক। কিন্তু নৌবাহিনী তাদেরকে সে সুযোগ দেয়নি।
ফিরে আসা সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, তারা অভিবাসন প্রত্যাশীদের খোঁজ-খবর নিতে ওই দ্বীপের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নৌবাহিনী তাদের নৌযান থামিয়ে দিয়েছে এবং চলার পথে তারা যেসব ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিল সেগুলোও মুছে ফেলতে বলেছে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়েছে যে, তারা আর কখনোই ওই দ্বীপের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবে না।
সাগরপথে মানবপাচার ও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১৭ জাতির আলোচনার মধ্যেই গত শুক্রবার মিয়ানমার উপকূলে একটি নৌযান থেকে ৭২৭ জনকে উদ্ধার করার খবর দেয় দেশটির সরকার। ৭২৭ জনের মধ্যে ৭৪ জন নারী ও ৪৫টি শিশুও রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদেরকে ‘থামি হিলা’ দ্বীপে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নৌযানের যাত্রীদের বরাত দিয়ে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে এসব মানুষ সমুদ্রে ভাসছে। প্রথমে তারা তিনটি নৌকায় করে সাগরে ভাসছিল। পরে মানবপাচারকারীরা তাদের একটি নৌকায় জড়ো করে এবং সমুদ্রে ফেলে রেখে চলে যায়। নৌকার যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। এছাড়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা-নির্যাতন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হামলায় অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে। এ ধরনের চরম প্রতিকূল পরিবেশে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের এ দুঃখ-দুর্দশাকে অপব্যবহার করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারীরা এসব মানুষকে লঞ্চে তুলে সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এ প্রলোভনের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষেরাও।#
সূত্র : Nayadigonto