IQNA

শবে কদর ও আহলে বাইতের(আ.) মধ্যে সম্পর্ক

21:44 - July 09, 2015
সংবাদ: 3326047
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শবে কদরকে রাতভর জেগে থেকে রুকু-সেজদার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছে এবং নিজের পাপ-কালিমার স্তুপকে মূর্তমান করে তুলে অনুশোচনায় কান্নাকাটি করে কাটিয়েছে, ঐ ব্যক্তিকে সাবাস দেই, সাধুবাদ জানাই। যারা এভাবে শবে কদরকে উদযাপন করেছে আশা করি তারা নিরাশ হবে না এবং নিজস্ব লক্ষ্যে পৌঁছুতে সক্ষম হবে।

শবে কদরের মর্যাদা যেভাবে সবার পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় তেমনিভাবে আহলে বাইতের গুরুত্ব ও মর্যাদাও সবার পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
আহলে বাইত-এ-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে সাইয়্যেদুল মুরসালিন নূরে মুজাস্‌সাম, মু’মিনদের প্রতি রাউফুর রাহিম, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার বংশধর তথা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা(সালামুল্লাহে আলাইহা), হযরত আলী(আ.), হযরত ইমাম হাসান(আ.) ও ইমাম হুসাইনকে (আ.) বুঝানো হয়।
আহলে বাইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নবীজীর বংশধরের প্রতি প্রেম-ভালবাসা সকল ইমানদারের জন্য ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে রাসূলের (সা.) আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসার নির্দেশ এসেছে। তাদের আনুগত্যও করতে বলা হয়েছে। যেমন, সুরা শুরার ২৩ নম্বর আয়াতে এসেছে:
قُلْ لَا أَسْأَلُکُمْ عَلَیْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِی الْقُرْبَىٰ
হে নবী! আপনি বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক বা মজুরি চাই না কেবল আমার পরিবারের প্রতি ভালবাসা চাই।
যে ব্যক্তি আহলে বাইতের(আ.) প্রতি ভালবাসা রাখবে সে ব্যক্তিই কেবল মাত্র ইমানের দাবিদার। রাসূল(সা.)-এর আহলে বাইতের(আ.) ভালবাসা ব্যতীত প্রকৃত ইমানদার হওয়া যায় না।
মহানবী (স.) তাঁর আহলে বাইত বলতে তাঁর নিষ্পাপ ও পবিত্র বংশধরকে বোঝাতেন। যেমন- হযরত ফাতিমা (সা.), ইমাম হাসান ও হুসাইন (সালামুল্লাহি আলাইহিম) ও আলী (আ.)। কেননা মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে (মুসলিম শরীফ, ৭ম খণ্ড, পৃ-১৩০) এবং তিরমিযী স্বীয় সুনানে হযরত আয়েশা হতে বর্ণনা করেছেন যে,
نزلت هذه الآیة علی النبی (صلی الله علیه [وآله] وسلّم)-
إِنَّمَا یُرِیدُ اللَّهُ لِیُذْهِبَ عَنْکُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَیْتِ وَیُطَهِّرَکُمْ تَطْهِیرًا
فی بیت امّ سلمة، فدعا النبی -صلّی الله علیه [وآله] وسلّم- فاطمة و حسناً و حسیناً فجلّلهم بکساء و علی خلف ظهره فجلّله بکساء ثم قال: الّلهم هولاء أهل بیتی فاذهب عنهم الرجس و طَهّرهم تطهیراً. قلت أمّ سلمة: و انا معهم یا نبی الله؟ قال: أنت علی مکانک و أنت إلی الخیر.
হে নবী পরিবারের সদস্যগণ! আল্লাহ তো শুধু তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে (সব ধরনের ভুল-ত্রুটি ও পাপ থেকে) পূত-পবিত্র রাখতে চান। এই আয়াতটি মহানবীর (সা.) এর উপর উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালমার (সা.) ঘরে অবতীর্ণ হয়। মহানবী (স.), ফাতেমা (সালামুল্লাহি আলাইহা.), হাসান (আ.) ও হুসাইন (আ.)কে নিজের ঢিলেঢালা লম্বা জামা তথা আলখাল্লার মধ্যে নিলেন এমতাবস্থায় আলী (আ.) তাঁর পেছনে অবস্থান করছিলেন। এরপর তাঁদের সবাইকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে এরূপ দোয়া করলেন: "হে আমার প্রতিপালক! এরাই আমার আহলে বাইত। অপবিত্রতাকে এদের হতে দূর করে এদেরকে পবিত্র কর।
উম্মে সালমা বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমিও কি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত (আমিও কি উক্ত আয়াতে বর্ণিত আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত)? তিনি বললেন: তুমি নিজের স্থানেই থাকো। তুমি সত্য ও কল্যাণের পথেই রয়েছ। এভাবে বিশ্বনবী (সা.) তাঁর কোনো স্ত্রীকে ওই বিশেষ চাদরের নীচে আসার অনুমতি দেননি যেখানে ছিলেন স্বয়ং রাসূল (সা.) এবং কন্যা ফাতিমা, জামাই আলী ও নাতি হাসান-হুসাইন (তাদের সবার ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও দরুদ বর্ষিত হোক।)
শিয়া ও সুন্নি উভয় মাজহাবের তাফসিরকারকরা একমত যে উপরোক্ত ৫৫ নম্বর আয়াতটি হযরত আলীর (আ.) শানে নাজিল হয়েছিল। কারণ, হযরত আলী (আ.) রুকু অবস্থায় একজন সাহায্যপ্রার্থীকে হাতের আঙুল থেকে আংটি খুলে দিয়ে যাকাত দিয়েছিলেন। ইবনে মারদুইয়া ও খতিব বাগদাদি ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে এবং তাবরানি ও ইবনে মারদুইয়া আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আয়াতটি আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) সম্পর্কে নাজিল হয়েছিল যখন তিনি রুকু অবস্থায় জাকাত দেন।
রাসূল(সা.)-এর হাদিস অনুসারে পবিত্র কোরআন এবং পবিত্র আহলে বাইত একই সুত্রে গাথা। আর পবিত্র কোরআন যেহেতু শবে কদরে অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং এই অনুযায়ী শবে কদর এবং পবিত্র আহলে বাইতও(আ.) একই জিনিস। শাবিস্তান

captcha