IQNA

কেন ১৪০০ বছর পর আজও আমরা ইমাম হুসাইনের(আ.) মুসিবতের জন্য ক্রন্দন করি?

19:38 - October 18, 2015
সংবাদ: 3388681
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইমাম হুসাইন(আ.)-এর মুসিবতের জন্য ক্রন্দন করার দর্শন ও হেতু রয়েছে। এবং শিয়া ও সুন্নিদের সূত্রে েইমাম হুসাইনের জন্য ক্রন্দন ও আজাদারি করার ফজিলত ও সওয়াবের কথাও বর্নিত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: হুজ্জাতুল ইসলাম আকবার রুসতায়ি বলেন, মুহররম মাস আসলেই আমাদের অন্তর ইমাম হুসাইনের জন্য কাদে। কারবালোয় ইমাম হুসাইন(আ.) ও তার সাথিদের উপর যে জুলুম এবং অত্যাচার হয়েছিল তা মনে পড়লে সবার চোখেই পানি চলে আসে। ইমাম হুসাইনের শোকে ক্রন্দনের ফজিলত সম্পর্কে আহমাদ ইবনে হাম্বাল বর্ণনা করেছেন: যারা ইমাম হুসাইন(আ.) ও আহলে বাইতের শোকে ক্রন্দন করবে তাদের পুরস্কার হচ্ছে বেহেশত।

শিয়াদের হাদিসেও ইমাম হুসাইনের শোকে ক্রন্দনের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে: কেউ যদি ইমাম হুসাইনের শোকে বিন্দুমাত্র ক্রন্দন করে তার সওয়াব হচ্ছে বেহেশত।

ইমাম রেজা(আ.) বলেছেন, হে শাবিবের পুত্র যদি কারও জন্য কাদতে চাও তাহলে ইমাম হুসাইনের(আ.) জন্য ক্রন্দন কর। তিনি আরও বলেন কেননা এর মাধ্যমে তোমার সকল গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।

পবিত্র কোরআনের সূরা মারিয়ামে বর্ণিত হয়েছে: «أُوْلَئِکَ الَّذِینَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَیْهِم مِّنَ النَّبِیِّینَ مِن ذُرِّیَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّیَّةِ إِبْرَاهِیمَ وَإِسْرَائِیلَ وَمِمَّنْ هَدَیْنَا وَاجْتَبَیْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَیْهِمْ آیَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُکِیًّا؛

তারা হল সে সকল লোক যাদের আল্লাহ নিয়ামত প্রদান করেছেন আদমের বংশধর থেকে, যারা নবী ছিল এবং তাদের মধ্য হতে যাদের আমরা নূহের সাথে তরণীতে আরোহণ করিয়েছিলাম; এবং ইবরাহীম ও ইসরাইলের বংশধরদের হতে এবং তাদের মধ্য হতে যাদের আমরা পথনির্দেশ করেছি ও মনোনীত করেছি। যখন তাদের সম্মুখে অসীম  দয়াময়ের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হত তখন তারা সিজদাবনত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় (মাটিতে) লুটিয়ে পড়ত।

ইমাম হুসাইন(আ.) আল্লাহর কোরআন এবং দ্বীনকে বাচানোর জন্য তার সকল কিছু উতসর্গ করেছেন সুতরাং তার জন্য রোজ কিয়ামত পর্যন্ত ক্রন্দন করতে হবে। আর এ জন্যই দীর্ঘ ১৪০০ বছর পর আজও আমরা ইমাম হুসাইনের জন্য ক্রন্দন করি।

captcha