এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর সাতটি আয়াত রয়েছে। সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সূরা হামদের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ বলা যেতে পারে:
১. সুর ও সঙ্গীতের দিক থেকে এই সূরাটি কুরআনের অন্যান্য সূরা থেকে মৌলিকভাবে আলাদা, কারণ এই সূরাটিতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে শিখিয়েছেন কীভাবে তাঁর প্রার্থনা করতে হয় এবং তাঁর সাথে কথা বলতে হয়। এই সূরার সূচনা প্রভুর হামদ ও প্রশংসার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং মাবদা এবং মা’য়াদের (শুরু এবং পুনরুত্থানে বিশ্বাস) বিশ্বাসের প্রকাশের সাথে চলতে থাকে এবং বান্দাদের আহ্বান ও চাহিদার সাথে শেষ হয়।
২. সূরা হামদ হল কোরআনের ভিত্তি। এব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ আনসারী, তাঁর একজন সাহাবীকে বলেছিলেন: "আমি কি তোমাকে সর্বোত্তম সূরা শিখিয়ে দেব যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন?" অতঃপর তিনি তাকে সূরা হামদ শিক্ষা দেন যা হল "উম্মুল কিতাব"। তারপর তিনি বলেন: "এই সূরাটি মৃত্যু ব্যতীত সকল ব্যথার নিরাময়।" "উম্ম" অর্থ ভিত্তি এবং মূল। সম্ভবত এ কারণেই বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে আব্বাস বলেছেন: "প্রত্যেক জিনিসেরই একটা ভিত্তি আছে... আর কুরআনের ভিত্তি হল সূরা হামদ"।
৩. কোরআনের আয়াতে সূরা হামদকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মহান উপহার হিসেবে প্রবর্তন করা হয়েছে এবং পুরো কোরআনের সামনে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে: « وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে ‘সাব্য়া মাসানী’ ও মহান কুরআন দান করেছি। (সূরা হিজর, আয়াত: ৮৭)
সূরার বিষয়বস্তু ও ফজিলত
এক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সূরাটি দুটি ভাগে বিভক্ত, একটি অংশে আল্লাহর প্রশংসা এবং অন্য অংশে বান্দার চাহিদার কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সাঃ) থেকে একটি হাদিসে, বলা হয়েছে: সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন: "আমি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে সূরা হামদকে ভাগ করেছি; এর অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার অধিকার আছে যে, সে যা চায়, আমার কাছে চাইবে।“
এই সূরার ফযীলতে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কোনো মুসলমান সূরা হামদ তেলাওয়াত করবে তাকে পবিত্র কুরআনের দুই-তৃতীয়াংশ (এবং অন্য হাদীসের মতে সম্পূর্ণ কুরআন) তেলাওয়াতের সওয়াব দান করা হবে এবং সে যেন এই সূরা পাঠ করে সকল মু’মিন নর ও নারীর জন্য হাদিয়া করেছে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿١﴾
(১) অসীম দয়াময় ও অনন্ত করুণাময় আল্লাহর নামে।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٢﴾
(২) সমুদয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾
(৩) (যিনি) অসীম দয়াময় ও অনন্ত করুণাময়।
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾
(৪) বিচার-দিবসের অধিপতি।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾
(৫) (হে আল্লাহ!) আমরা তোমারই উপাসনা করি এবং তোমার থেকেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾
(৬) তুমি আমাদের সরল পথে প্রতিষ্ঠিত রাখ।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾
(৭) তাদের পথে যাদের তুমি (স্বীয়) নিয়ামত দান করেছ, ক্রোধে পতিতদের (পথে) নয় এবং পথভ্রষ্টদের (পথে)ও নয়।