ইকনা সূত্রে ইরাকের নূন সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, বিভিন্ন প্রদেশ ও বিদেশ থেকে আগত আরবাঈন জিয়ারতে অংশগ্রহণকারী হুসাইনি শোক ও সেবামূলক মওকিবগুলোর জন্য ১৪ হাজার আর্থিক সহায়তা ও নিবন্ধন অনুমোদন জারি করা হয়েছে। এছাড়া মহররম মাসের প্রথম দশক উপলক্ষে ৭৪৬টি মওকিবকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ করিম আজিজ নূন সংবাদ সংস্থাকে জানান, মহররমের প্রথম দশ দিন ও আশুরার অনুষ্ঠান সফলভাবে পালনের জন্য সকল প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বাইনে হারামাইন প্রশাসন, কারবালা পুলিশ কমান্ড এবং পবিত্র হুসাইনি রওজার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র রওজার শরয়ি অভিভাবক শায়খ আব্দুল মাহদি আল-কারবালাই, রওজার তত্ত্বাবধায়ক হাসান রশিদ আল-আবায়েজি, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহররমের প্রথম দশকের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম রাতের শোকের পতাকা পরিবর্তনের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দশ মহররমের ঐতিহ্যবাহী তুওয়ারিজ শোক মিছিল পর্যন্ত সব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ করিম আজিজ আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সহায়ক সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ শোক কমিটি কারবালার আশপাশ থেকে আগত ১১টি শোক মিছিলের প্রবেশ ও কার্যক্রম প্রথম মহররম থেকে নবম মহররম পর্যন্ত পরিচালনা করবে। এছাড়া জিয়ারতকারীদের সুবিধার জন্য চারটি বিশেষ মঞ্চ স্থাপন করা হবে এবং পবিত্র প্রাঙ্গণে চারটি স্থানে শব্দব্যবস্থা ও টেলিভিশন সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হবে।

মওকিব বিভাগের প্রধান বলেন, প্রদত্ত ৭৪৬টি অনুমোদনপত্র কেবল মহররমের প্রথম দশ দিনের জন্য প্রযোজ্য। প্রতিটি মওকিবকে সংশ্লিষ্ট কমিটির নির্ধারিত বিধি-বিধান ও নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হতে হবে। এসব নির্দেশনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কার্যক্রম সহজ করা হবে, অন্যদিকে মওকিবগুলোর শৃঙ্খলা ও নিয়ম পালনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই বিভাগের প্রতিনিধিরা ইরাকের সব প্রদেশ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে লাখো জিয়ারতকারী ও মওকিব পরিচালনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং কারবালার পবিত্র নগরীতে শোক ও সেবামূলক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হয়।
কারবালার উপকণ্ঠের মওকিবগুলোর বিশেষ শোক ও সেবামূলক কার্যক্রমের কারণে তাদের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মওকিব পরিচালনা, পবিত্র রওজার ভেতরে ময়লা-আবর্জনা প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ এবং শোকানুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ করিম আজিজ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মহররমের মওকিবের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আরবাঈন জিয়ারতের জন্য ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ ও বিশ্বের নানা দেশ থেকে আগত হুসাইনি মওকিবের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজারে পৌঁছেছে এবং প্রতিবছরই এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই বিশাল আয়োজন পরিচালনায় বিভাগটির স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ২০ জনেরও কম। তবে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ৫০ জন কর্মীর প্রয়োজন। পবিত্র হুসাইনি রওজার শরয়ি অভিভাবক ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কারবালা ও অন্যান্য প্রদেশের মওকিবগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। 4357365#