IQNA

নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের কারণে ভারতের কয়েক মুসলমানের বিরুদ্ধে মামলা

18:23 - June 12, 2026
সংবাদ: 3479294
ভারতের উত্তর প্রদেশে একটি ভেঙে ফেলা মসজিদের ভেতর “আমি মুহাম্মদকে ভালোবাসি” লেখা স্টিকার এবং ইসলামি প্রতীকসংবলিত সবুজ পতাকা পাওয়ার অভিযোগে সাতজন মুসলমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ইকনা সূত্রে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের সাম্ভাল জেলায় অবস্থিত মুস্তফা কাদেরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মসজিদটি একটি সরকারি কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত জমির ওপর নির্মিত হয়েছিল। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনগত প্রক্রিয়ার সময় জমির মালিকানার কোনো বৈধ দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। পরবর্তীতে ধ্বংসের নির্দেশনার বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হয়ে যায় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।

তবে মসজিদ ধ্বংসের পর পুলিশ সেখানে “আমি মুহাম্মদকে ভালোবাসি” লেখা স্টিকার ও ইসলামি পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত সবুজ পতাকা পাওয়ার দাবি করলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পুলিশ এসব সামগ্রী জব্দ করে এবং কে এগুলো সেখানে রেখেছে ও তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন মুসলিম নেতা ও সমাজের প্রতিনিধিরা মসজিদ ভাঙা এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, এই ঘটনা ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ইসলামি প্রতীক ও পরিচয়ের প্রতি আচরণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মসজিদ ও ইসলামি ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। মানবাধিকার সংস্থা ও অধিকারকর্মীরা ধর্মীয় পরিচয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের পদক্ষেপ জমির মালিকানা ও স্থানীয় প্রশাসনিক আইন বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আরেক ঘটনায়, মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং তাদের আইনগত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মুম্বাইয়ে মহারাষ্ট্র মুসলিম ফেডারেশন আয়োজিত এক পরামর্শসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংসদ সদস্য, আইনজীবী, সাবেক বিচারক, সমাজকর্মী ও ধর্মীয় আলেমরা অংশ নেন। সেখানে ঘৃণামূলক অপরাধ, সহিংসতায় উসকানি, ধর্মান্তরবিরোধী প্রস্তাবিত আইন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সম্ভাব্য প্রভাবসহ মুসলিম সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। 4357544#

 

 

 

captcha