IQNA

আয়াতুল্লাহ সিস্তানীর জিহাদী ফতোয়ার বর্ষপূর্তিতে ইরাকি ব্যক্তিত্বদের প্রশংসা

14:20 - June 14, 2026
সংবাদ: 3479304
ইরাকের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা আয়াতুল্লাহ সিস্তানীর প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়ার বর্ষপূর্তিতে এই ফতোয়ার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মারজাইয়্যাতের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
 

ইরাকের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা আয়াতুল্লাহ সিস্তানীর প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়ার বর্ষপূর্তিতে এই ফতোয়ার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মারজাইয়্যাতের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

ইরাকি সংবাদ সংস্থা (INA)-এর সঙ্গে আলাপকালে এসব ব্যক্তিত্ব জোর দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের জুনে আয়াতুল্লাহ সিস্তানী যে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়া জারি করেছিলেন, তা ছিল একটি কৌশলগত মোড়। এই ফতোয়া ইরাকের নিরাপত্তা ও সামরিক পরিস্থিতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় শক্তি একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

নিনেভার শিয়া ওয়াকফের উপপরিচালক আব্বাস যায়নাল আলী বলেন, প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়া আধুনিক ইরাকের ইতিহাসে একটি কেন্দ্রীয় ঘটনা। কারণ দায়েশের সন্ত্রাসী হামলায় দেশের কয়েকটি প্রদেশের পতনের মুহূর্তে এই ফতোয়া জারি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই ফতোয়া ইরাককে গুরুতর হুমকি থেকে রক্ষা করতে, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। মারজাইয়্যাতের ঐতিহাসিক আহ্বান সে সময়ের হতাশা ও পরাজয়ের অনুভূতিকে ব্যাপক জনগণের সক্রিয়তায় রূপান্তরিত করেছিল, যা সেনাবাহিনী ও জনগণের মনোবলকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

আব্বাস যায়নাল আলী জোর দিয়ে বলেন, এই ফতোয়াই জনপ্রিয় হাশদ আশ-শাবী বাহিনী গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছে, যারা পরবর্তীকালে বিভিন্ন সেনা শাখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।

বদর সংস্থার সহকারী প্রধান আলী আল-হাজী বলেন, ধর্মীয় মারজাইয়্যাত আবারও প্রমাণ করেছে যে, ইরাকের সামনে আসা জীবন-মরণের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়া শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং দায়েশের বিস্তারকে থামিয়ে দিয়েছিল, যা বাগদাদ ও অন্যান্য প্রদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।

আলী আল-হাজী জানান, মারজাইয়্যাতের ডাকে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনী ও জনপ্রিয় হাশদ বাহিনীতে যোগ দেন, যা ইরাকি বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ফতোয়ার প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামাজিক সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইসলামী দাওয়া পার্টির একজন কর্মকর্তা রিয়াদ আবু কারার আস-সালমি বলেন, ২০১৪ সালে ইরাক যখন অস্তিত্বের হুমকির মুখে ছিল, তখন প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়া জারি হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল ধর্ম ও বংশের ইরাকিরা মারজাইয়্যাতের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ রক্ষার জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশের সেনাবাহিনী, হাশদ বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আত্মত্যাগ ইরাকের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও মানবতাবোধের প্রতীক হয়ে থাকবে।

শায়খ হাসান আল-বায়াতি বলেন, ইসলামী ধারণায় জিহাদ হলো ভূমি, জনগণ ও পবিত্র স্থানের প্রতি আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন, যখন সেগুলো হুমকির সম্মুখীন হয়। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ফতোয়া এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং এটি একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধ করেছে এবং ইরাকের ঐক্য রক্ষা করেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, এই ফতোয়া শুধু সামরিক বা নিরাপত্তা ঘটনা ছিল না, বরং এটি একটি সামাজিক সচেতনতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ তৈরি করেছিল। এটি একটি ব্যাপক জনসমাবেশের উপায় হয়ে উঠেছিল, যা প্রচেষ্টাকে একত্রিত করতে এবং সকল ইরাকির জন্য সাধারণ হুমকির মোকাবিলায় শক্তি নির্দেশিত করতে সাহায্য করেছে।

captcha