
‘Aquila Style’ ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে কুরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: ইন্দোনেশিয়ার দশ বছরের মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু ‘ফজর আব্দুর রহমান ওহী উদ্দিন’ আরবি ভাষা বলতে পারেনা কিন্তু সে সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করেছে।
ব্যতিক্রমধর্মী এ শিশুটি অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করতে সক্ষম হয়েছে।
ফজর সেরিব্রাল পালসি সিন্ড্রোম রোগে ভুগছে। এরফলে তার স্নায়ুতন্ত্র এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন ফাংশন (শিক্ষা, শ্রবণ এবং চিন্তা করার ক্ষমতা) একটু দেরিতে কাজ করে।
ফজরের ৩৫ বছরের মা ‘হেনা সুলিতিয়ু ভ্যাটি’ জানান: ‘আমার ছেলে পবিত্র কুরআনের বিশেষ আয়াত খুঁজতে ভালবাসে এবং সে আয়াতগুলো খুঁজে পড়তে থাকে’।
ফজরের সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করার ক্ষেত্রে তার বাবা-মা’র যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তারা এটা বিশ্বাস করে যে কুরআন, সকল সমস্যার সমাধান করে। তাদের সন্তান দুনিয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে পবিত্র কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে শোনাতেন।
ফজরের মা হেনা ইন্দোনেশিয়ার কারাঙ্গানিয়ার শহরের অধিবাসী। তিনি শিশুদের জন্য কুরআন শেখার গুরুত্বারোপ করে বলেন: শিশুদের অবশ্যই ভালো কিছু শুনতে হবে। আর পবিত্র কুরআনের থেকে ভালো অন্য কিছুই নেই।
চার বছর থেকেই ফজর কুরআন হেফজ করা শুরু করে। তার মা কুরআনের হাফেজ না হওয়ার কারণে একজন কুরআনের শিক্ষক তার জন্য নির্ধারণ করেন। আর এরফলে সে নয় বছরে সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করতে সক্ষম হয়েছে।
তার বিভিন্ন ডাক্তারি টেস্টে পরিলক্ষিত হয় যে, তার মস্তিষ্ক আকস্মিক সমস্যায় জর্জরিত। তবে সাম্প্রতিক টেস্টে দেখা যায় যে, এ সমস্যা প্রায় সমাধানের পথে।
বর্তমানে ফজর সরকারী স্কুলে যাচ্ছে এবং তার ধারণ ক্ষমতা, জ্ঞানগত ক্ষমতা এবং চলাচল ক্ষমতা উন্নতির দিকে।
হেনা বলেন: ‘পবিত্র কুরআনের মুজেজা’র (অলৌকিক ঘটনা) মাধ্যমে ফজর সক্ষম হয়েছে তার রোগকে পরাস্ত করতে’।
1447097