IQNA

মহৎ গুণাবলীর আকর হযরত যায়নাব সালামুল্লাহে আলাইহা

14:55 - April 28, 2009
সংবাদ: 1771174
হযরত যায়নাব ( সা:আ: ) যখন ভূমিষ্ঠ হলেন তখন তার মা হযরত ফাতেমা ( সা: আ:) আরবদের মধ্যে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তাঁর নাম রাখার জন্য নিয়ে গেলেন আমীরুল মোমেনীন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব ( আ:) এর কাছে । হযরত আলী (আ:) বললেন, মহানবী (সা:) যেহেতু দূরে আছেন সেহেতু তিনি তাঁকে ছাড়া মেয়ের নাম রাখবেন না । যখন মহানবী (স:) গৃহে ফিরলেন তখন আমীরুল মোমেনীন নবজাতক সন্তানটিকে কি নামে ডাকা হবে তাঁর কাছে জানতে চাইলেন । মহানবী (স:) জবাবে বললেন, আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে না জানা পর্যন্ত তিনি কিছু বলতে পারবেন না এবং অপেক্ষা করতে বললেন । অতপর হযরত জিবরাইল ( আ:) মহানবী ( সঃ) এর কাছে হাজির হয়ে আল্লাহর শুভেচ্ছা তাঁকে জানালেন এবং বললেন, শিশুর নাম যেন যায়নাব রাখা হয় সেটাই আল্লাহর ইচ্ছা ।এই শিশুকে যে একদিন মর্মান্তিক ঘটনাবলী মোকাবেলা করতে হবে সে তথ্যও জিবরাইল ( আ:) মহানবী (স:)কে দিলেন । মহানবী (স:) এই তথ্য অবগত হয়ে বিষণ্ন হলেন এবং বললেন, এই মেয়ের দুঃখে যে কাঁদবে আল্লাহ তায়ালা তাকে হযরত ইমাম হাসান ( আ:), হযরত ইমাম হোসাইন (আ:) এর জন্য তাঁর ( যায়নাবের ) কান্নার অনুরূপই পুরস্কার প্রদান করবেন ।সৎগুণাবলী, প্রশংসনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং চমৎকার আচরণের মধ্যেই তাঁর নাম বা পদবীর সত্যিকার প্রতিফলন ঘটেছে। যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষালাভ না করলেও হযরত যায়নাব ( সা:আ: ) ইসলামী নীতিমালা ও এর মূল এবং শাখা-প্রশাখা এবং শরীয়ত ও হাদিসশাস্ত্র সম্বন্ধে প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বলা যায়, আল্লাহ তাকে এগুলো দান করেছিলেন ।সহনশীলতা ও দয়া ছিল তাঁর বিশেষ গুণ। একমাত্র তাঁর মা হযরত ফাতিমা ( সা: আ:) ব্যতীত হযরত যায়নাব ( সা:আ:) ই ছিলেন সবচেয়ে মহীয়সী মহিলা । তিনি যখনই হযরত ইমাম হোসাইন ( আ: ) এর গৃহে যেতেন তখন ইমাম তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তাঁর নিজের আসনে তাঁকে উপবেশন করতে বলতেন। কোন মহিলার প্রতি এ রকম শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ঘটনা তখন সচরাচর দেখা যেত না । তিনি তাঁর পিতা আমীরুল মুমেনীনের মতই স্পষ্টভাষী ও বাগ্মী ছিলেন। তা না হলে ইমাম হোসাইন (আ:) ৪র্থ ইমাম অসুস্থ জয়নুল আবেদীন (আ:) এর দায়িত্বভার তার উপর দিয়ে যেতেন না ।দয়া, ভালোবাসা ও স্নেহ মমতায় তিনি ছিলেন তাঁর মায়ের মতোই । এজন্যই তার মা মৃত্যুশয্যায় ছোট ভাইদের দেখাশোনার দায়িত্বভার তার হাতেই অর্পণ করে বলেছিলেন, ‘‘তাদের প্রতি তুমি যত্নবান থাকবে। তাদের দেখাশোনার ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হলে।’’
কারবালার ট্র্যাজিডিতে হযরত যায়নাব ( সা:আ: )’র ভূমিকা
কারবালার যুদ্ধের প্রস্তুতি ও যুদ্ধ চলাকালে যেসব মহীয়সী নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার মধ্যে নেতৃস্থানীয়া ছিলেন ইমাম হোসাইন ( আ:)এর বোন ও হযরত আলী ( আ:) এর কন্যা হযরত যায়নাব
( সা:আ: ) । নবীবংশের নারীরা যখন তাঁদের ইমামকে সহযোগিতা করতে চাইলেন, তাঁর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করলেন, সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চাইলেন, তখন ইমাম তাঁদেরকে সঙ্গে নিলেন । ইমাম হোসাইন ইয়াযীদ বাহিনীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য সত্য দীন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি মিশন নিয়ে শত্রু ব্যুহের দিকে অগ্রসর হন। সেই মিশনে হযরত যায়নাব ( সা:আ: ) অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন, কষ্ট স্বীকার করার জন্য সহযাত্রী হয়েছেন ।
ইমাম হোসাইন ( আ:) এর শাহাদতের পর শত্রুপক্ষ তাঁবুর মধ্যে তান্ডবলীলা চালায়, তাঁবু জ্বালিয়ে দিয়ে নারী ও শিশুদের আশ্রয়হীন করে এবং তাঁদের ওপর অমানষিক অত্যাচার-নির্যাতন করে যা বর্ণনাতীত । তখন হযরত যায়নাব ( সা:আ: ) নবী বংশের অভিভাবকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে নবীবংশের সদস্যরা একত্র হয় এবং বন্দী অবস্থায় ইবনে যিয়াদের দরবারে যাবার প্রক্কালে পথিমধ্যে তিনি বক্তৃতা করেন ।তাঁর বক্তব্যে সকল ঘটনার পটভূমি ও বর্বরতার স্বরুপ স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি ইবনে যিয়াদ ও ইয়াযীদের দরবারে অর্থবহ তেজোদীপ্ত বক্তব্য দেন। ইয়াযীদ তার কৌশল ও নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ।ইমাম হোসাইন ( আ:) এর মাধ্যমে যে মিশন যাত্রা শুরু করে হযরত যায়নাব ( সা:আ: ) পরবর্তীকালে তাঁর অনন্য ভূমিকার মাধ্যমে সেই মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যান । বিশ্বের ইতিহাসে তার অনন্য ভূমিকা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ।#
captcha