বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : সিরিয়ায় হিজবুল্লাহ সৈন্যদের উপস্থিতির বিষয়ে আরবীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তোলপাড়ের কথা উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেছেন : আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট, আমরা এ পর্যন্ত সিরিয়া সরকারের পাশে থেকে প্রতিরোধ করিনি এবং সিরিয়া সরকারও আমাদের নিকট এমন আবেদন জানায়নি।
তিনি বলেন : কোন কিছুকেই গোপন করা সম্ভব নয়, আমরাও কোন কিছুকেই গোপন করবো না। যখন কেউ শহীদ হয় তখন আমরা তার পরিবারকে তার শাহাদাতের সময় স্থান ও সে কিভাবে শহীদ হয়েছে সে সম্পর্কে অবগত করি। আমরা লেবাননে এ বিষয়ে কারো সাথে উপহাস করি না এবং কোন কিছুকেই গোপন করি না। শহীদদের জানাযাকে আমরা প্রকাশ্যে উত্তোলন করি এবং শরিয়াত ও নৈতিক দিক দিয়ে এ বিষয়ে কোন সমস্যাও নেই।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ’র বক্তব্যের কিছু অংশের বাংলা অনুবাদ নিন্মে উল্লেখ করা হল :
-আমরা সর্বদা আমাদের শহীদদের জানাযা প্রকাশ্যে ও গর্বের সাথে উত্তোলন করি; সিরিয়া নিহত (সরকার বিরোধী) শহীদরা যারা দাবী করে যে, সিরিয়ায় শহীদ হয়েছে, তারা কোথায়?!
-আমরা এ বিষয়ে কখনও গোপনীয়তার আশ্রয় নেইনা, যখন কোন ব্যক্তি শহীদ হয় তখন তার পরিবারকে সে কোথায়, কখন ও কিভাবে শহীদ হয়েছে সেসম্পর্কে জানানো হয়। লেবাননে এ বিষয়কে গোপন করা হয় না এবং প্রকাশ্যে শহীদদের জানাযা উত্তোলন করা হয়, গোপনে নয়।
-আমরা বর্তমানে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের মুখোমুখি, যার গুরুত্ব ও নিদর্শনাবলী সম্পর্কে ইসরাইলিদের মতৈক্য রয়েছে।
-লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন একটি ড্রোন (স্থান সনাক্তকারী পাইলট বিহীন বিমান) সমুদ্র অভিমূখে রওনা করে এটাকে শতাধিক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে, অতঃপর শত্রুদের শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যুহ ভেদ করে দক্ষিন ফিলিস্তিন দিয়ে দখলকৃত ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। ইসরাইলিদের কর্তৃক এ বিমান চিহ্নিত হওয়ার পূর্বেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনার উপর উড্ডয়ন করেছে বিমানটি।
-এ বিমান করে নির্দিষ্ট রুটে কয়েক শ’ কিলোমিটার পথ উড্ডয়ন করেছে। বিমানটি ইরানের তৈরী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞার এর যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়েছে, আর এটি রাশিয়ার তৈরী নয়।
-বিমানের ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক এবং আমরা এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম। এর মাধ্যমে যা কিছু আমরা পেয়েছি তা হল, বিমানটি রাডারেপূর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে চিহ্নিত হওয়া ব্যতীত শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ী দিয়েছে। এর মাধ্যমে কিছু কিছু ইসরাইলের চিরকালের দাবী (তাদের আকাশ সীমায় প্রবেশ অসম্ভব) মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
-আমি আমার মুজাহিদ ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি যারা জাতি ও উম্মতের প্রতিরক্ষায় প্রাণ হারায়। আমরা আজ আমাদের শক্তির কিছুটা নমুন প্রদর্শন করেছি মাত্র।
-আমাদের এ অভিযান এ বিষয়কে স্পষ্ট করে যে, আমাদের ক্ষমতা গোপন ও উপযুক্ত সময়ে আমরা তা প্রদর্শন করতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সময়ে প্রতিপক্ষকে বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম।
-এলাকা সনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ড্রোন উড়ানো আমাদের ন্যায্য অধিকার। এটা আমাদের প্রথম ও শেষ অভিযান নয় বরং ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের অভিযান চালাবো। আমরা এ ধরণের অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হস্তগত করতে সক্ষম।
-আমরা এ অভিযানের নাম দিয়েছি ‘শহীদ হাসান আইয়ুব’, যে ছিল হিজবুল্লাহ বাহিনী’র এ বিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। আমরা ‘আইয়ুব’ নামে এ বিমানের নাম করণ করতে চাই।
-এ পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হতে আমাদের অনেক সময় লেগেছে এবং এ অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যত সংঘর্ষই থাকুক না কেন আমরা প্রধান শত্রু ইসরাইল হতে একমুহুর্তের জন্যও অমনোযোগী নই।
-এ ড্রোন নির্দিষ্ট রুটে উড্ডয়ন করেছে এবং এটি রাশিয়ান বিমান নয় বরং ইরানে তৈরী একটি পাইলট বিহিনী বিমান, তবে এর যন্ত্রাংশগুলো হিজবুল্লাহর বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা লেবাননেই জোড়া লাগিয়েছে।
-পৃথিবীর কোন প্রতিরোধ আন্দোলনই নিজেদের সকল সক্ষমতা সীমান্ত অথবা যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনে এনে উপস্থিত করে না; এটা বুদ্ধিবৃত্তি বহির্ভূত কোন বিষয় নয়। সুতরাং এটা বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক ও স্বাভাবিক একটি বিষয় যে, প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজের সকল সরঞ্জাম ও অস্ত্র নিয়ে সকল অঞ্চলে অবস্থান গ্রহণ করবে।
-যদি আমাদের অস্ত্রসমূহকে কয়েকটি অস্ত্রগুদামে সীমাবদ্ধ করি তবে সেগুলো অতি সহজেই চিহ্নিত হবে এবং শত্রুরা ঐ লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।
-হিজবুল্লাহ বাহিনী’র অস্ত্রাগার অবশ্যই গোপন থাকবে। আমরা এ বিষয়ে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কিন্তু হয়তবা ‘নাবী শাইসে’র ঘটনার ন্যায় প্রযুক্তিগত সমস্যা বা কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃত ভুলের শিকারও হতে পারি।#1117802
তথ্যসূত্র : বার্তা সংস্থা আবনা