IQNA

নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরছেন মিয়ানমারের ৬০০০ মুসলমান

18:08 - October 25, 2012
সংবাদ: 2437728
আন্তর্জাতিক বিভাগ: মিয়ানমারের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় সর্বস্ব হারা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরছেন।
কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, প্রায় আড়াই হাজার হতভাগ্য মুসলমান ২০টি নৌকায় করে আজ দুপুর ১২টার দিকে আকিয়াব উপকূলীয় মুসলিম অধ্যুষিত ময়ূরকুল এলাকায় আশ্রয় নিতে গেলে নাসাকা বাহিনী তাদেরকে সমুদ্রের দিকে তাড়িয়ে দেয়। সেখানে নৌবাহিনীর পেট্রোলবোট তাদেরকে ঘিরে রেখেছে। আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ নৌকায় করে আকিয়াব উপকূলে জালিয়া পাড়ায় আশ্রয় নেয়। সেখানে প্রথমে নাসাকা বাহিনী বাধা দিলেও পরে তাদের তীরে উঠার সুযোগ দেয়। কিন্তু জালিয়াপাড়া গ্রাম আগেই লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে গ্রামবাসীরা উদ্বাস্তদের কোন সাহায্য করতে পারছে না। এ অবস্থায় তারা তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের অপেক্ষা করছে।
এদিকে, রাথিডং থানার মুজাই গ্রামে আজ সকালে দ্বিতীয় দফা আগুন দিয়ে অবশিষ্ট ৩০০ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল মামড়া থানার বেশিরভাগ গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার পর উগ্র রাখাইনরা মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছে, সেখানে যেন অন্য এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কোন মুসলমানকে আশ্রয় দেয়া না হয়। পকটু ও ম্রেপুন থানার ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেও রাখাইন সন্ত্রাসীরা অনেককে ধরে নিয়ে গুম করে ফেলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শহর মঙডুর আতঙ্কিত মুসলমানেরা জানিয়েছে, রাখাইন অধ্যুষিত নিলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া থেকে হামলাকারীদের জন্য লোকবল ও পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওদিকে, রাখাইন রাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি আজ জানিয়েছে, ২১ অক্টোবর থেকে চলমান সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা এর দ্বিগুণ হতে পারে বলে ওই মুখপাত্র জানান। তবে, গতকাল রেডিও তেহরানের খবরে বলা হয়েছিল, ম্রাউ থানার যুলাপাড়া গ্রামে অগ্নিদগ্ধ ১৯৩টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
গত চার দিনে আকিয়াবের পার্শ্ববর্তী মুসলিম অধ্যুষিত ২২টি গ্রামের ১৮০০ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে উগ্র বৌদ্ধরা।#রেডিও তেহরান
captcha