আন্তর্জাতিক বিভাগ : মিয়ানমারে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে চলমান জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই দাঙ্গাকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার অজুহাত হিসেবে যেন ব্যবহার করা না হয় সে ব্যাপারে বুধবার কঠোর হুশিয়ারি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক তদন্তকারী দলের ভাষ্য, যে কোন মূল্যে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতেই হবে। খবর রয়টার্সের।
Jugantor এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : গত ১১ দিনে মিয়ানমারে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গায় অন্তত ৮৯ জন নিহত হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের মতে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং সংখ্যালঘু সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টমাস ওজেয়া কুইনটানা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই পরিস্থিতিকে একটি সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে কিছুতেই ব্যবহার করা যাবে না। এমন অবস্থায় মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিশেষ করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সীমান্ত উš§ুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আদ্রিয়ান এডওয়ার্ডস। তিনি ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র। মিয়ানমার সরকার এবং অন্যরা রোহিঙ্গাদের যেভাবে অবৈধ অভিবাসী ও বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। ওজেয়া কুইনটানা বলেন, যদি ওই রাষ্ট্রকে (মিয়ানমার) সফলভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নীত হতে হয় তবে অবশ্যই মানবাধিকার বিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলো দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করতে হবে। রাখাইন প্রদেশে দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ চলে আসছে। আর তা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের জ্ঞাতসারেই হচ্ছে, বলা হয় ওই বিবৃতিতে।
রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, রাখাইনরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে ছুরি-চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। জাতিসংঘের হিসাবে, নতুন করে সহিংসতার কারণে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের ৯৭ শতাংশই মুসলমান। এদের অনেকেই এখন তাঁবুতে বসবাস করছে। এর আগে চলতি বছরের জুনে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দেশটিতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়। সে সময় বাস্তুচ্যুত হয় ৭৫ হাজার মানুষ। নতুন করে গৃহহারা ২৮ হাজার মানুষও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিতা ইসাক বলেন, রোহিঙ্গারা সাংবিধানিকভাবেই সংখ্যালঘু এবং তাদের আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার সনদের আওতায় নিরাপত্তা দিতে হবে।#