কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: এর আগে মার্কিন সরকার ও গণমাধ্যমগুলো সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সেদেশের সেনাবাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা জোরেসরে প্রচার করেছে। একই সঙ্গে আমেরিকা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে এমনসব অস্ত্র-শস্ত্র দিয়েছে যাতে এদিয়ে সিরিয়ার হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিরাপত্তা এবং বাইরের দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছেন।
সিরিয়ায় সম্প্রতি মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা এবং নিরীহ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ব্যাপক বেড়ে গেছে। ইরাক ও লিবিয়ায়ও আমেরিকা একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। সিরিয়া গোলযোগে উস্কানিদাতা দেশগুলো এ মুসলিম দেশটিকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে অস্ত্রের জোরে সিরিয়ার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা যায়।
দশ বছর আগে এই দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের হাতে রাসায়নিক রয়েছে এবং এ অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানা হতে পারে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল তাদের এ দাবির স্বপক্ষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কিছু নথিপত্র তুলে ধরে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, সাদ্দামের রাসায়নিক অস্ত্রের বিপদ অত্যাসন্ন। প্রায় দু’বছর আগে আমেরিকা ও তার মিত্ররা গাদ্দাফির হামলা থেকে জনগণকে রক্ষার কথা বলে সেদেশে হামলা চালায়। ইরাক ও লিবিয়ার পর এবার তারা সিরিয়ার দিকে নজর দিয়েছে এবং নানা অজুহাতে এ দেশটিতে হামলা চালানোর পায়তারা করছে।
সিরিয়ার ব্যাপারে পাশ্চাত্যের কয়েকটি পরিকল্পনা বা কৌশল রয়েছে। প্রথমত, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা যাতে তাদের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা যায়। এরপর পাশ্চাত্য ও তাদের আরব মিত্ররা সিরিয়ায় তাদের ইচ্ছেমত সরকার বসিয়ে সেই সরকারকে স্বীকৃতি দেবে। অবশেষে সেই সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সিরিয়ায় পাশ্চাত্যের ব্যাপক সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে সিরিয়া সরকার মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও আমেরিকার নানাবিধ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে আছে। এ কারণে ইসরাইল ও আমেরিকা সিরিয়া সরকারকে উৎখাত করে সেদেশে তাদের অনুগত সরকার বসানোর চেষ্টা করছে। পাশ্চাত্যের ধারণা এভাবে আসাদ সরকারের পতন ঘটলে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের ইসরাইল বিরোধী সংগ্রামী দলগুলোকে দুর্বল করা যাবে।
ইরাক ও লিবিয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, পাশ্চাত্য যে আশা নিয়ে এ দু’দেশে হামলা চালিয়ে সরকার উৎখাত করেছিল পরবর্তীতে তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ইরাক যুদ্ধে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ হলেও এবং যুদ্ধে চার হাজার ৫০০’র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হলেও আমেরিকা দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং ইরাকের জনগণ আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হয়েছে।
মার্কিন হামলায় লিবিয়ার স্বৈরশাসকের পতন ঘটলেও সেখানে আজো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং সম্প্রতি এক সহিংস ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিহত হয়েছেন। ইরাক ও লিবিয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করেও এবং সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েও আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। আমেরিকার এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইসলামী গণজাগরণ। তাই সিরিয়ার ব্যাপারেও পাশ্চাত্য কতখানি সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। #রেডিও তেহরান