বার্তা সংস্থা ইকনা:সৌদি আরব গত শনিবার শিরশ্ছেদ করে প্রখ্যাত শিয়া আলেম শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এ প্রসঙ্গে রুহানি বলেন, এটাই স্বাভাবিক যে ইসলাম এবং মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ করা হলে, সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসবেই।
ড. হাসান রুহানি বলেন, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে একজন ধর্মীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার অপরাধ ঢাকতেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। নিঃসন্দেহে এই ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব তার মহা অপরাধ ধামাচাপা দিতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে সমালোচনাকে দমন করা উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, আমরা আশা করব মানবাধিকার বিষয়ে সরব ইউরোপীয় দেশগুলো এই ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। বৈঠকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনসেন প্রেসিডেন্ট রুহানিকে বলেন, নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে তার দেশই প্রথম নিন্দা জানিয়েছে।
এছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে বলেন: অন্যান্য দেশের সাথে এক হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
ড. হাসান রুহানি গুরুত্বারোপ করে বলেন: সন্ত্রাসবাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘wave’ নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন: এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় যে, কোন মাজহাব, জাতি অথবা ধর্মের অনুসারীগণ সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হচ্ছে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই সন্ত্রাসীদের হাতে নিরীহ মানুষ অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছে সেখানেই প্রতিবাদ করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করতে হবে।
ড. হাসান রুহানি বলেন: ইসলাম ধর্মের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোনই সম্পর্ক নেই। ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এ বিষয়ে লক্ষ রাখা উচিত যে, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে মিডিয়ার অবিচারের ফলে সন্ত্রাসী সম্প্রদায় সমাজে নির্বিঘ্নে অনুপ্রবেশ করে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পবিত্র কুরআনের থেকে দলিল উপস্থাপন করে বলেন: একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করার অর্থ হচ্ছে গোটা মানব জাতিকে হত্যা করা। ইসলাম সাতে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং সন্ত্রাসীদের ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা ঠিক নয়।