IQNA

মাদায়া’য় খাদ্য সংকট, সত্য না মিথ্যা?

10:52 - January 12, 2016
সংবাদ: 2600083
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি পশ্চিমা ও আরবের কিছু মিডিয়ায় সিরিয়ার মাদায়া শহর খাদ্য সংকটের ব্যাপারে ব্যাপক লেখালেখি করেছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মাদায়া শহরে বেশ কয়েক মাস ধরে সেদেশের সামরিক বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ অবরোধ করে রেখেছে বলে মিথ্যা প্রচার করেছে পশ্চিমা ও আরবের কিছু মিডিয়া এবং বানোয়াট নথি প্রদান করে দেশটির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছে।

ওয়াহাবিদের অন্তর্গত কিছু মিডিয়ায় বিশেষ করে আল-আরাবিয়া এবং আল-জাজিরা এ বিষয়টি ওপর অধিক হাইলাইট করেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট প্রচার করার মাধ্যমে সিরিয়ার সরকারকে মাদায়া শহরে অধিবাসীদের খাদ্যাভাব ও অপুষ্টিকরতার জন্য দায়ী করেছে।

এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা আল-আলম লিখেছে: আল মানার টেলিভিশন চ্যানেল প্রকাশ করেছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সকল সুবিধা বাজেয়াপ্ত করে, জনগণের মধ্যে খাদ্য বিতরণ না করে, ইচ্ছামত নিজেদের মধ্যে খাদ্য বণ্টন করেছে।

আল-মানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমা ও আরবের বিভিন্ন মিডিয়ায় মাদায়ার বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার করেছে এবং এর কোন সত্যতা নেই।

দুর্ভিক্ষের শিকার এক ব্যক্তিশিরোনামে প্রচারিত ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, ঐ ব্যক্তিটি এক জন প্রতিবন্ধী এবং গত বছরের প্রথম দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

কাতারের আল জাজিরা সংবাদ মাধ্যমের সম্প্রচারক খাজিদা বিন কানিহা সামাজিক নেটওয়ার্কে সিরিয়ায় মাদায়া শহরে খাদ্য সংকটের জন্য পুষ্টিহীনতার করণে একটি শিশুকন্যার ছবি পোষ্ট করেছে। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, ছবিটি গতবছর মার্চে প্রকাশ হয়েছে সেগুলো পূর্ব গুতার নাগরিকদের অন্তর্গত।

পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, মাদায়া শহরে খাদ্য সংকটের আলোকে যে সকল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ ছবিই পূর্ব গুতার অন্তর্গত।

যে সকল ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সেখানে দেখা যায় যে, পূর্ব গুতার অধিবাসীরা এ পরিস্থিতির জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষ করে জয়শ আল-ইসলাম গ্রুপকে দোষারোপ করছে।

এ রকম অনেক ফেইক ছবি তৈরি করে সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া ব্যাপকভাবে বিশ্বব্যাপী মিথ্যা প্রচারণা করছে ও ছড়িয়ে দিচ্ছে আর সেই সাথে তারা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে যে, এইগুলো মাদায়া অঞ্চলের অধিবাসীদের যেখানে বাশার আল আসাদ মানে সরকারি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহর অবরোধের ফলে সেখানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সত্যিকার বাস্তবতার বিষয় হলো- সিরিয়ার সরকারী বাহিনী মাদায়া শাঘিন, সারঘায়া অঞ্চলে খাদ্যের ও চিকিৎসার ট্রাক কার্গো প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। কারণ এতদিন মানবিক উপকরণগুলো, খাদ্যের গুদাম সেখানকার সন্ত্রাসী গ্রুপের আওতাধীন ছিল এবং সেই শহরের কেন্দ্র সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করতো। এমনকি মাদায়া শহর থেকে কেউ অন্যত্র চলে যেতে চাইতে সেই অঞ্চলের বাসিন্দাকে সন্ত্রাসীরা আটক করে রাখতো। পরবর্তীতে সিরিয়ার সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে কিন্তু অন্যান্য সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ না করে মাদায়াতে রয়ে যায় এবং তারা হুমকি দেয় যেকোনো বহনকারী যানবাহনের উপর হামলা চালাবে। ফলে মাদায়াতে অঞ্চলে উপস্থিত সন্ত্রাসীদের দরুন সৃষ্ট হয়েছিল সেখানে বিশৃঙ্খল মানবিক বিপর্যয়। অবশ্য এই পরিস্থিতিতেও সিরিয়ার সরকারী বাহিনী বিমানের উপর সন্ত্রাসীদের ফায়ার করার মধ্যেও বিমান থেকে ময়দার বস্তা, রুটি ফেলত মাদায়া অঞ্চলে অধিবাসীদের জন্য। অথচ আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া, হিউম্যান রাইটস এসব অঞ্চলে 'বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর তখন কোনো একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে নি।

কিন্তু আজ সৌদি আরব পশ্চিমা মিডিয়া তাদের নিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার দিয়ে প্রচুর টাকা ঢেলে টেকনোলোজি, মিডিয়া ব্যবহার করে জনগণের সেন্টিমেন্ট আদায়ের জন্য সৌদি আরব ও পশ্চিমার প্রতি সমর্থন বাড়ানোর জন্য এবং তাদের খুশিমতো মিথ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং সেটার ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

লেবাননের আল মিনার সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ গুরুত্বারোপ করে বলেছে, মাদায়ায় খাদ্য সংকট হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা মানবিক সাহায্যের প্রায় ১০ ট্রাক খাদ্য সামগ্রী জব্দ করেছে এবং জব্দকৃত খাদ্য সামগ্রী মাদায়া বাসির নিকট অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেছে।

মাদায়া, সারগিয়া ও বাকিন অঞ্চলে ২০১৫ সালের ১৮ই অক্টোবরে ১০ ট্রাক খাদ্য প্রবেশ করেছে এবং এ সকল অঞ্চলের অধিবাসীরা ১০ ট্রাক খাদ্যের মাধ্যমে কয়েক মাস অতিবাহিত করতে পারত।

জাতি সংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন মানুষ সিরিয়ায় কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করে। তাকফিরি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির ফলে ২০১১ সালে পর থেকে সংকটের সম্মুখীন হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ২৬০ জন নিহত হয়েছে। এবং লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

http://iqna.ir/fa/news/3466644/


captcha