
আমার স্মরনের জন্য নামাজ কায়েম কর, সকল অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য নামাজ আদায় কর ইত্যাদি।
সূরা জুমুয়াতেও বলা হয়েছে: "یأیها الذین ءامنوا إذا نودی للصلوة من یوم الجمعة فاسعوا إلی ذکر الله
হে বিশ্বাসিগণ! জুমআর দিনে যখন নামাযের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জান!
যিকিরের দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে অধিক যিকির করা এসম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবে বর্ণিত হয়েছে: يا ايّها الّذين امنوا اذكرا الله ذكراً كثيراً ، و سبّحوه بكرهً و اصيلاً
মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর।
আর তৃতীয় পর্যায়ের যিকির হচ্ছে যাতে সামান্যতম গফিলতিও করা যাবে না এসম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে: و اعبد ربک حتی یأتیک الیقین" و "رجال لاتلهیهم تجرة و لابیع عن ذکر الله" و "الذین یذکرون الله قیما و قعودا و علی جنوبهم
এবং তোমার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হওয়া অবধি তোমার প্রতিপালকের উপাসনা করতে থাক।
এমন পুরুষেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় যাদের আল্লাহর স্মরণ, নামায প্রতিষ্ঠা করা ও যাকাত দান করা হতে উদাসীন করতে পারে না; তারা সে দিনকে ভয় করে যেদিন (ভীতির ভয়াবহতায়) হৃদয় ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে (হত-বিহ্বল হয়ে) যাবে।
যারা দাঁড়িয়ে এবং বসে ও তাদের পার্শ্বদেশে (শায়িত অবস্থায়) আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা করে; (ও বলে,) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি একে অযথা সৃষ্টি করনি, তুমি (অসার কর্ম হতে) মহাপবিত্র ; সুতরাং আমাদের (জাহান্নামের) আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা কর।
এক হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে যে, হযরত আলী (আ.) যখন মক্কা থেকে মদীনার দিকে হিজরত করেন তখন তাঁর জননী ফাতিমা বিনতে আসাদ, ফাতিমাতুয যাহরা এবং ফাতিমা বিনতে যুবায়ের প্রমুখও তাঁর সাথে ছিলেন। সিহনান নামক স্থানে পৌঁছে তাঁরা এক দিন এক রাত অবস্থান করেন। এ চারজনই সমগ্র যাত্রাপথে উঠতে, বসতে, শয়ন করতে আল্লাহর যিক্র-এ অতিবাহিত করেন। তাঁরা যে স্থানেই পৌঁছতেন এ অবস্থায় কাটাতেন। যতদিন তাঁরা জীবিত ছিলেন ততদিন তাঁদের অবস্থা এমনই ছিল। তাঁদের সার্বক্ষণিক আল্লাহর স্মরণের প্রশংসায় আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।