
শীর্ষনিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট: ফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক নিয়ে হামলার ঘটনায় অন্যায় দোষারোপের শিকার হচ্ছেন ফরাসি মুসলিমরা। বাস্তিল দিবসের ওই হামলার পর ফ্রান্সে সামাজিক বিভেদ ও বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নিসের দরিদ্র এলাকা আরিয়ানের মুসলিম বাসিন্দারা এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। গত ১৪ জুলাই রাতে বাস্তিল দিবস উদযাপনের জন্য ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসের প্রমেনাদে দেজ অ্যাংলেইসে আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ।
দ্রুতগতির ২৫ টনি একটি ট্রাক জনতার ওপর উঠিয়ে দিয়ে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চালিয়ে যায়। এতে ঘটনায় ৮৪ জন নিহত হন, আহত হন ২০২ জন। ট্রাকচালক হিসেবে তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক লাহোয়েজ বুলেলকে শনাক্ত করে পুলিশ।
আইএসআইএল হামলার দায় স্বীকার করে বুলেলকে নিজেদের একজন ‘সৈনিক’ হিসেবে প্রশংসা করেছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস জানিয়েছেন, ৩১ বছর বয়সী হামলাকারী ‘খুব দ্রুত উগ্রবাদী হয়ে উঠেছিল’।
বুলেল যেখানে বসবাস করতেন, সেই আবতোরিস আবাসিক এলাকা থেকে আরিয়ান এলাকাটি কয়েক কিলোমিটার দূরে। এখানে অনেক মুসলমানের বসবাস। স্থানীয় আল ফোরকানি মসজিদের ইমাম এ ঘটনায় হত্যাকারীর ধর্মকে দায়ী করার বিষয়ে সাবধান থাকতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যাই হোক, অপরাধ অপরাধই।’ বুলেলের স্বজন ও বন্ধুরা জানিয়েছেন, খুব অল্পদিন আগেও বুলেল প্রচুর মদ্যপান করতেন, গাঁজা খেতেন এবং নারী আসক্ত ছিলেন। এসব কিছুই ধার্মিক মুসলমানের জীবনযাপনের সঙ্গে খাপ খায় না।
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের অন্যতম মুসলিম নেতা এলাবেদ লোফতি বলেন, ‘এই ব্যক্তি রোজা রাখত না, ভালো মুসলিম বলার মতো ন্যূনতম যোগ্যতাও তার (বুলেল) নেই।’ ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সেই সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস।#