
বেহেশ্তের যুবকদের সরদার ও মহানবী হযরত মুহাম্মাদের (সা.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইনকে (আ.) ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম আশুরার দিনে কারবালার মরুপ্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইসলামের এ ঐতিহাসিক ঘটনাকে প্রতি বছরই স্মরণ করা হয়ে থাকে।
মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম হুসাইন (আ.) মহান আল্লাহ্ কর্তৃক ঘোষিত নিষ্পাপ ব্যক্তি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ যাঁর নিষ্পাপ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন : إِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرَا
হে নবীর আহলে বাইত! আল্লাহ্ চান তোমাদের থেকে পাপ-পঙ্কিলতা দূর করে তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।
মহানবীর (সা.) নিকট থেকে ইমাম হুসাইনের(আ.) মর্যাদা সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সব হাদীসের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ দু’টি হাদীস এখানে উল্লেখ করা হলো। মহানবী (সা.) বলেছেন : اَلْحَسَنُ وَ الْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلَ الْجَنَّةِ
হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা।
মহানবী (সা.) আরো বলেছেন : إِنَّ الْحُسَيْنَ مِصْبَاحُ الْهُدَى وَ سَفِيْنَةُ النَّجَاةِ
নিশ্চয়ই হুসাইন হেদায়েতের প্রদীপ ও মুক্তির তরী।
অনেক সময় আমরা ইমাম হুসাইনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর এসব হাদীসকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হই। অনেকে মনে করেন, যেহেতু ইমাম হুসাইন মহানবীর দৌহিত্র ছিলেন সেজন্য তিনি ভালোবেসে তাঁর সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন, এমনকি ‘বেহেশতের যুবকদের নেতা’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে প্রশংসাসূচক উক্তি বা তাঁকে ‘বেহেশতের যুবকদের নেতা’ উপাধিতে ভূষিত করার পেছনে আত্মীয়তার সম্পর্কের কোনো ভূমিকা ছিল, নাকি ইমাম হুসাইন এর যোগ্য ছিলেন বলেই রাসূল তাঁকে এ উপাধিতে ভূষিত করেছেন এর জবাবের জন্য ইমাম হুসাইনের জীবন ও কর্মের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।
ইসলামকে রক্ষাকারী ইমাম হুসাইনের শাহাদাত ও ত্যাগকে স্মরণ করে আজাদারি করার গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতি বছর মুহরমত মাসে আজাদরি পালন করে ইমাম হুসাইনের পথে চলার জন্য নতুন করে শপথ গ্রহণ করে থাকেন।