
ইসলাম পুর বাদাখশান বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন ইমাম হুসাইন(আ.) মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে শাহাদাত বরণ করেছেন অথচ আমরা কেন ১০ দিন আজাদারি পালন করি। উত্তর হচ্ছে: আমাদের ইমামগণ এভাবেই আজাদারি করতেন, সুতরাং আমরা তাদের অনুসরণ করে এভাবে আজাদারি পালন করি।
তিনি বলেন: এ ক্ষেত্রে আমাদের শরীয়তের দলিল হচ্ছে। নবী(সা.) ও ইমামগণের সুন্নত ও নির্দেশ। ইমাম রেজা(আ.) বলেছেন: «كانَ أبي إذا دَخَلَ شَهرُ المُحَرَّمِ لايُرى ضاحِكا . . . فَإذا كانَ يَومُ العاشِرِ كانَ ذلِكَ اليَومُ يَومَ مُصيبَتِهِ و حُزنِهِ و بُكائِهِ؛ মুহাররাম মাস শুরু হলে আমার মহান পিতার চেহারায় দুখের চিহ্ন দেখা দিত। আর ১০ই মুহাররামে তিনি শুধু ক্রন্দন এবং রোনাজারি করতেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম পুর বাদাখশান বলেন: আহলে বাইতের সিরাতে আমরা ইমাম হাসাইনের জন্য ক্রন্দন ও আজাদারি দেখতে পাই। ইমামগণ মুহাররাম মাসের প্রথম দিন থেকেই ক্রন্দন ও আজাদারি করতেন আর সেই অনুসারে আমরাও মুহাররাম মাসের প্রথম ১০ দিন অতি গুরুত্বের সাথে আজাদারি ক থাকি।
বিশ্বনবী (সা.)’র হাদিসে বলা হয়েছে, যারা জালেম শাসক ও যারা আল্লাহর ঘোষিত হারামকে হালাল করে তাদের ব্যাপারে কেউ যদি নীরব থাকে এবং কোনো প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া না দেখায় তাহলে তারও স্থান হবে ওই জালেম শাসকের জায়গায় তথা জাহান্নামে।
হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর মহা-বিপ্লবের লক্ষ সম্পর্কে স্পষ্টভাবেই বলে গেছেন: আমি আমার নানার উম্মতের সংস্কারের জন্য বের হয়েছি। আমি সৎ কাজের আদেশ দিতে চাই এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে চাই এবং আমার নানার আচরণ ও সুন্নাত অনুযায়ী আচরণ করতে চাই।
হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাঁর সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন: হুসাইন আমার চোখের আলো, সে আমা হতে এবং আমি হুসাইন হতে। যা কিছু তাঁকে আনন্দিত করে তা আমাকেও আনন্দিত করে, যা কিছু তাঁকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়। আর যা আমাকে কষ্ট দেয় তা আল্লাহকেও কষ্ট দেয়।