IQNA

23:59 - September 08, 2018
সংবাদ: 2606662
ইমাম বাকির(আ.) তার ছাত্রদেরকেও নিজের মত বাকেরুল উলুম বানিয়েছিলেন তার অন্যতম ছাত্রদের মধ্যে একজন হলেন আবান বিন তাগলেব। যখন ইমাম আবানের মৃত্যুর সংবাদ পেলেন তখন তিনি বলেন, আমার কলিজায় আঘাত লেগেছে।

 ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)'র জন্ম হয়েছিল পবিত্র মদিনায় ৫৭ হিজরির পয়লা রজব। তাঁর মা ছিলেন ইমাম হাসানের কন্যা ফাতিমা (সা.আ) কারবালার  মহা-ট্র্যাজেডি ও মহা-বিপ্লবের সময় তিনি পিতা ইমাম সাজ্জাদ (আ.) ও দাদা ইমাম হুসাইন (আ.)'র সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর।

পিতা ইমাম সাজ্জাদ তথা ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.) হিজরি ৯৫ সালে শাহাদত বরণ করলে তিনি মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব তথা ইমামত লাভ করেন। আর সেই থেকে শাহাদত লাভের সময় পর্যন্ত তথা ১৯ বছর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বনবী (সা.) তাঁর সাহাবি জাবের (রা.)-কে বলেছিলেন যে তুমি আমার বংশধর বাকিরকে দেখতে পাবে, তাঁর নামও হবে মুহাম্মাদ এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যও হবে আমার মত। সে হবে জ্ঞান-বিদারক বা উন্মোচক তথা বাকির। তুমি তাঁর কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিও। জাবের (রা.) সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ইসলামের সত্যিকার শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ এ ধর্মের সার্বিক দিকগুলোর সংরক্ষণ, ক্রমবিকাশ এবং ক্রম-অগ্রগতি মহান ইমাম বাকির (আ.)’র কাছে চিরঋণী।

তাঁর আগে মহানবীর (সা.) বংশধারার নিষ্পাপ সদস্যরা সত্যকে তুলে ধরার সংগ্রামে ব্যস্ত থাকায় এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা না থাকায় ইসলামী সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান-বিস্তার আন্দোলনের কোনও প্রকাশ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে যেতে পারেননি।

 কিন্তু এক সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় এই কাজ প্রকাশ্যেই ও মোটামুটি বিনা বাধায় করার সুযোগ পেয়েছিলেন ইমাম বাকির (আ.)। আর এ জনই তাঁকে বাকির আল উলুম বা জ্ঞান বিদীর্ণকারী বলা হয় যা তাঁর সবচেয়ে বড় উপাধি।

তিনি প্রকাশ্যেই ছাত্র ও সমর্থকদের সমাবেশে ইসলামী বিশ্বাস ও কুরআন-হাদিস সম্পর্কে বক্তব্য রেখে, জ্ঞানগত বহু বিতর্কে অংশ নিয়ে এবং তাঁর আলোচনাগুলোর সংকলন প্রকাশের অনুমতি দিয়ে ইসলামী জ্ঞান-আন্দোলনকে মোটামুটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পেরেছিলেন।

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: