IQNA

0:01 - May 11, 2021
সংবাদ: 2612764
তেহরান (ইকনা): সৌদি আরব, মিসর, দুবাইসহ একাধিক আরব রাষ্ট্রে সাহরি-ইফতারের সময় জানাতে ‘তোপধ্বনি’র রেওয়াজ আছে।

ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার পরও এসব দেশে কামানের গোলা নিক্ষেপ করে শব্দ করা হয়। রমজানের বিশেষ ঐতিহ্য হিসেবে আরব মুসলিমদের কাছে পদ্ধতিটি জনপ্রিয়।

শুরু যেভাবে

১৪৬০ সালে মামলুক সুলতান খাসকাদুমকে একজন জার্মান একটি তোপ উপহার দেন। ১৪৬৭ সালে পরীক্ষার জন্য সূর্যাস্তের সময় তা দিয়ে গোলা নিক্ষেপ করা হয়। ঠিক ওই সময়টি ছিল মাগরিবের সময়, যখন রোজা শেষ হয়। রোজার সময় সমাপ্তির নির্দেশক হিসেবে তোপধ্বনির প্রক্রিয়াটি শহরবাসীর পছন্দ হয়। পরবর্তী সময়ে সাহরি ও ইফতারের সময় জানাতে মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চালাতে স্থানীয় আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সুলতানকে পরামর্শ দেন। সুলতানও রাজি হলেন। পরে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার পরও তোপধ্বনি দেওয়া শুরু হয়। এভাবেই চমৎকার এই পদ্ধতির শুরু। মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানী কায়রোর ঐতিহাসিক সালাহ উদ্দিন দুর্গে সুলতান খাসকাদুমের তোপটি আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। জানা যায়, ১৯৯২ সাল থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ৩০ বছর এটির ব্যবহার বন্ধ ছিল। তবে চলতি রমজানে ফের তোপটি চালু করা হয়েছে।

অন্য ইতিহাসও আছে

আরেকটি ঐতিহাসিক সূত্র মতে, সালাহ উদ্দিন দুর্গে এই তোপটি রেখেছিলেন মিসরের তৎকালীন শাসক ইসমাইল পাশার (১৮৩০-১৮৯৫) সেনারা। তাঁরা এটি দিয়ে অনুশীলন করতেন। একদিন মাগরিবের আজানের সময় তোপটিতে একটি গোলা নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাক্রমে তখন পবিত্র রমজান মাস ছিল। এ সময় ইসমাইল পাশার কন্যা শাহজাদি আল হাজ্জাহ ফাতেমা ইফতারের সময় জানাতে তোপধ্বনি করার প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং একই সঙ্গে সাহরি ও ঈদের চাঁদ দেখার পরও তোপধ্বনির প্রচলন ঘটে।

আরো তোপধ্বনি

মিসরে প্রচলন হওয়া সাহরি-ইফতারের তোপধ্বনি অন্য দেশের মুসলিমের কাছেও বেশ সমাদৃত। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্কসহ আরো কয়েকটি দেশে তোপধ্বনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তা ছাড়া পরবর্তীকালে মিসরের অনুসরণে সাহরি ও ইফতারের সময় জানাতে বিভিন্ন দেশে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মুজাহিদদের সাহরিতে জাগাতে ফাঁকা গুলিসহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনের রেওয়াজ শুরু হয়।

সৌদিতে তোপধ্বনি

সৌদিতে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের অদূরে উত্তর দিকে একটি তোপ সংরক্ষিত আছে। রমজানে সাহরি ও ইফতারের সময় মক্কায় সমাগত ওমরাহ যাত্রীদের সম্মানে তোপটিতে গোলা নিক্ষেপ করা হতো। ঈদের চাঁদ দেখার পরও উৎসবের আমেজে এটি ব্যবহার করা হতো, তবে ছয়-সাত বছর ধরে মক্কার তোপধ্বনি বন্ধ আছে। তা ছাড়া ১৯৩১ সাল থেকে তাবুকেও তোপধ্বনি রীতির চর্চা শুরু হয়। সৌদি ঐতিহাসিক আব্দুল্লাহ আল উমরানি বলেন, বিংশ শতাব্দীর শুরুর কিছুটা পরে সৌদি রাষ্ট্রের স্থপতি শাহ আব্দুল আজিজ তায়েফে একটি সেনাছাউনি স্থাপন করেন। সেখানকার এক কর্মকর্তা সেনাদের সাহরি ও ইফতারের সময় জানাতে তোপধ্বনি কার্যক্রম চালু করেন।

তুরস্কেও আছে

তুরস্কে রমজানে সাহরি ও ইফতারের সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ড্রাম বাজিয়ে রোজাদারদের ঘুম থেকে জাগানোর সংস্কৃতিও চালু আছে। তা ছাড়া রমজানকে স্বাগত জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়ার সময় মসজিদের মিনারগুলোতে জ্বলে কানদিল নামের বিশেষ বাতি। এগুলো জ্বলতে থাকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। তুরস্কে কানদিল জ্বালানোর এই ঐতিহ্য শত বছরের পুরনো।

আনন্দ ও আধিপত্যের প্রতীক

মুসলিম সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, তোপধ্বনি রোজার আনন্দ ও মুসলিমদের আধিপত্যের প্রাচীন প্রতীক। আরব সভ্যতা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য একটি অংশের রূপ নিয়েছে এটি। রমজানে তোপের ব্যবহার এতটাই সমাদৃত হয়েছে যে সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এটি জনপ্রিয়। সূত্র : আল আরাবিয়াডটনেট

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: