IQNA

গত ৪২ বছরে ইরানের সশস্ত্র বিপ্লবী সামরিক শক্তির আমূল পরিবর্তন

20:25 - January 08, 2022
সংবাদ: 3471248
তেহরান (ইকনা): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , ব্রিটেন , ফ্রান্স তথা পাশ্চাত্য তাদের উন্নত আকাশ (বিমান) প্রযুক্তি ও  শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব (air superiority) নিয়ে গর্ব করে এবং বিশ্ববাসীকে এই এয়ার পাওয়ারের জুজুর ভয় দেখিয়ে বশীভূত করে ও দমিয়ে রেখেছে। আর পাশ্চাত্য তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত বহাল ছিল এমনকি শীতল যুদ্ধের যুগে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ওয়ার্শো জোট বিদ্যমান ছিল তখনও ।

কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের পরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বিপ্লবী সামরিক শক্তি হিসেবে উত্থানে ৪২ বছরের মধ্যে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে । ইরান এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , রাশিয়া ও চীনের পর ৪র্থ বৃহত্তম ড্রোন শক্তি এবং ড্রোনের ( পাইলোট বিহীন প্লেন ) বহুল ব্যাপক ব্যবহারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরই ইরানের অবস্থান ২য় অর্থাৎ ইরান হচ্ছে এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ২য় দেশ । আর ইরান কর্তৃক এই ড্রোন প্রযুক্তি বহুল ও ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এখন পশ্চিম এশিয়া , মধ্য এশিয়া , উত্তর আফ্রিকায় এবং ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে (মধ্য প্রাচ্যে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা পাশ্চাত্যের আকাশ শক্তির প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব এই প্রথম বারের মত খর্ব হয়েছে যা সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

 

এর প্রমাণ হলো ১১ বছর আগে ঐ সময়ের সর্বাধুনিক মার্কিন ড্রোন (RQ 170) পেন্টাগণ ও সিআইএর যৌথ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা ইন্টারসেপ্ট করে বিকল করে অক্ষত নামিয়ে আনে এবং ২০১৯ এর জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত ও দামী ( ২৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ) গ্লোবাল হক গোয়েন্দা ড্রোন রাডার দিয়ে শনাক্ত করে মিসাইল মেরে ভূপাতিত করেছিল । অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আস্ফালন করে বলত যে এই গ্লোবাল হক ড্রোন সবচেয়ে উন্নত ও সর্বাধুনিক ড্রোন তা বিশ্বের কোনো রাডার সিস্টেম শনাক্ত করে কোনো মিসাইল সিস্টেম তা ভূপাতিত করতে পারবে না । অথচ ইরান রাডার দিয়ে শনাক্ত করে তা ১৫ খোর্দাদ মিসাইল সিস্টেম দিয়ে ভূপাতিত করে মার্কিনীদের গর্ব ও দর্প ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে । উল্লেখ্য যে , সর্বসাকুল্যে দুইটা গ্লোবাল হক গোয়েন্দা ড্রোনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কাছে ছিল যার একটি খোয়া গেলে এখন মাত্র একটি বিদ্যমান আছে ।

 আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই যদি এহেন করুণ দশা হয় তাহলে কৃত্রিম মেকি যায়নবাদী বর্ণবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের দশা যে কী হবে তা সহজেই অনুমেয় । গত বছরের ( ২০২১) মে মাসের ১১ দিনের ইসরাঈল - গাযা যুদ্ধ থেকেও এ বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে গেছে । যা হোক ইসলামী বিশ্ব , মুসলিম উম্মাহ এবং মুসলমান দেশগুলো কে এ বাস্তবতা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে ও পাশ্চাত্য তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ের অর্গল থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং বিশ্বাস ও উপলব্ধি করতে হবে যে পাশ্চাত্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাগুজে বাঘ ছাড়া আর কিছুই নয় । এ ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবী ইরান মুসলিম বিশ্ব , দেশ ও জাতি গুলোর জন্য উত্তম আদর্শ ( উস্ওয়াতুন হাসানাহ্ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ) হতে পারে । উল্লেখ্য যে , তুরস্ক , পাকিস্তান , ভারত এমনকি রাশিয়া ও চীনের ড্রোন ও বিমান শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ শক্তিকে চ্যালেঞ্জ ও খর্ব করতে পারে নি । কেবল ইরানের ড্রোন শক্তিই  মার্কিন আকাশ ও বিমান শক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ ও খর্ব করতে সক্ষম হয়েছে যা মার্কিন সেন্টকমের প্রধান জেনারেল ফ্রাংক্ ম্যাক্কেনযীর বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে গেছে । অতএব মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত মুসলিম নামধারী পাশ্চাত্য শিক্ষিত, পাশ্চাত্য পন্থী , পাশ্চাত্য ঘেঁষা ও পাশ্চাত্যের পাচাটা সেবাদাস তুল্য  বুদ্ধিজীবীদের (অথর্ব বুদ্ধুজীবী বলাই শ্রেয় ) মহান , স্রষ্টা ও দ্বীন ইসলামের প্রতি খাঁটি ঈমান এনে ও পাশ্চাত্যের বস্তাপচা মতবাদ ও মতাদর্শ ত্যাগ করে মুসলিম উম্মাহর খেদমতে নিজেদেরকে আত্ম নিয়োগ করতে হবে ।

তা ছাড়া ইরাক সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সে দেশ সফররত জেনারেল কাসেম সুলাইমানীকে সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে বাগদাদে শহীদ করলে ইরান ইরাকের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইনুল আসাদে সফল ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যে  ব্যাপক ক্ষতি করেছে  তা থেকে ইরানের সুক্ষ্ম ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিরও পরিচয় মেলে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্যও হুমকি । আর এ বিষয়টি সংক্রান্ত স্বতন্ত্র আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে ।

 

মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

৮-১-২০২২

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha