IQNA

20:09 - January 24, 2022
সংবাদ: 3471329
তেহরান (ইকনা): পাকিস্তানে আরোপ করা করোনাভাইরাস নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, যারা পূর্ণ কোভিড টিকা নেননি তারা নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বেশ কয়েকটি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। 
 
শুক্রবার দেশটিতে ৭ হাজার ৬৭৮ জনের শরীরে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে, এটি করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর একদিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার রেকর্ড।
 
জনস্ হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিদিন গড়ে ৬২০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
 
এ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার যেসব জেলাগুলোতে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভিটির হার ১০ শতাংশের উপরে সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ ঘরের ভেতরের সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি স্কুল ও যেসব খেলাধুলায় শারীরিক সংস্পর্শ লাগে সেগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
 
পাকিস্তানের সার্বিক পজিটিভির হার প্রায় ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে এ হার অনেক বেশি। দেড় কোটি বাসিন্দার করাচি শহরে পজিটিভিটির হার ৪৬ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে, এখানে পরীক্ষায় প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে। রাজধানী ইসলামাবাদে পজিটিভির হার প্রায় ২০ শতাংশ এবং প্রায় প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনকে আক্রান্ত হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে।
 
 
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ২২ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৩৬ শতাংশ বা ৭ কোটি ৮০ লাখ লোক করোনাভাইরাস টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন। 
 
অনেকের মধ্যে দ্বিধা থাকায় সরকার টিকা গ্রহিতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কঠোর সব পদক্ষেপ নিয়েছে। মোবাইল ফোনের সেবা বন্ধ রাখা, বেতন আটকে রাখা ও বিমান ভ্রমণ করতে না দেওয়া এগুলোর অন্যতম।
 
মসজিদে প্রবেশের জন্য টিকার দুই ডোজ নেওয়া বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি মাস্ক পরা ও নামাজ আদায়ের সময় ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।  
 
গত বছর দেশটির সরকার একই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করার চেষ্টা করলে বিরোধিতাকারীরা বেশ কয়েকটি ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছিল।
 
এপ্রিলে করাচিতে বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মসজিদের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে মুসুল্লিরা পুলিশের গাড়ির লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: