IQNA

19:48 - February 28, 2022
সংবাদ: 3471497
তেহরান (ইকনা): ২৭ রজবের রাত মহানবীর ( সা . ) নুবুওয়াতের ঘোষণা ও দ্বীন প্রচারের দায়িত্ব সহ মানব জাতির কাছে প্রেরিত হওয়া অর্থাৎ  মাব'আসের রজনী । আর এ রাত ইসলামের মুবারক রাত সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এ রাতের বেশ কিছু আমল আছে ।

২৭ রজবের প্রভাতে মহানবীর ( সা .) মাব'আস অর্থাৎ নুবুওয়ত ও রিসালতের ঘোষণা দেয়া হয় ( অর্থাৎ মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদকে সা. নুবুওয়ত ও রিসার্চ প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে মানবজাতির কাছে প্রেরণ করার ঘোষণা দেন )। আহলুল বাইতের ( আ.) অনুসারীদের মধ্য থেকে যে কেউ এ রাতে আমল করবে তার জন্য ষাট বছর ধরে আমল করার সওয়াব দেয়া হবে ।

এ রাতের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ইমাম সাদিক্ব ( আ.) বললেন : ইশার নামায পড়ার পর বিছানায় শুয়ে যাবে ও ঘুমিয়ে নেবে ; তোমার ইচ্ছানুযায়ী মধ্যরাত্রি হওয়ার আগেই যে কোনো সময় ঘুম থেকে জেগে যাবে । এরপর ১২ রাকাত নামায পড়বে এ নিয়মে যে প্রতিটি রাকাতেই সূরা - ই  হামদ এবং সূরা - ই মুহাম্মাদ থেকে পবিত্র কুরআনের শেষ পর্যন্ত  দীর্ঘ ও নাতিদীর্ঘ সূরা সমূহের মধ্য থেকে যে কোনো একটি সূরা ক্বিরাআত করবে অত:পর যখন দু রাকাত নামাযের সালাম দিবে এবং এ ভাবে যখন ঐ বারো রাকাত নামায শেষ করবে তখন সালামের পর বসবে এবং ৭ বার সূরা - ই হামদ , মুআওওয়িযাতাইন্ ( সূরা - ই ফালাক্ব্ ও সূরা - ই নাস প্রতিটি ) ৭ বার , সূরা - ই ইখলাস ৭বার , সূরা - ই ক্বুল্ ইয়া আইয়ুহাল্ কাফিরূন্ ৭বার , সূরা - ই ক্বদর ৭ বার , আয়াতুল কুরসি ৭ বার  এবং এ সব সূরা ও আয়াত ক্বিরাআতের পর নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করবে :

 

لَمْ یَتَّخِذْ وَلَدَاً وَ لَمْ یَکُنْ لَّهُ شَرِیْکٌ فِي

 

الْمُلْکِ وَ لَمْ یَکُنْ لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ وَ کَبِّرْهُ

 

تَکْبِیْرَاً اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُکَ بِمَعَاقِدِ عِزِّکَ

 

عَلَیٰ أَرْکَانِ عَرْشِکَ وَ مُنْتَهَی الرَّحْمَةِ مِنْ

 

کِتَابِکَ وَ بِاسْمِکَ الْأَعْظَمِ الْأَعْظَمِ الْأَعْظَمِ

 

وَ ذِکْرِکَ الْأَعْلَی الْأَعْلَی الْأْعْلَیٰ وَ

 

بِکَلِمَاتِکَ التَّامَّاتِ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَیٰ مُحَمَّدٍ وَ

 

آلِهِ وَ أَنْ تَفْعَلَ بِيْ مَا أَنْتَ أَهْلُه.

 

অত:পর তুমি যে দুআটি পড়তে চাও তা পড়বে ।

  ২. এ রাতে গোসল করা মুস্তাহাব এবং ১৫ রজবের রাতে যে নামায পড়া হয় তা এ রাতেও পড়া যাবে ;

  ৩. ইমাম আমীরুল মু'মিনীন আলীর (আ :) যিয়ারত এ রাতের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল । আর এ রাতে হযরত আলীর ( আ : ) ৩টি যিয়ারত বর্ণিত হয়েছে  ।

   ৪ . কাফ'আমী বালাদুল আমীন গ্রন্থে বলেছেন যে  মাব'আসের রাতে  নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করা হয় দুআটি :

 

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُکَ بِالتَّجَلِّي الْأَعْظَمِ فِيْ

 

هٰذِهِ اللَّیْلَةِ مِنَ الشَّهْرِ الْمُعَظَّمِ وَ الْمُرْسَلِ

 

الْمُکَرَّمِ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَیٰ مُحَمَّدٍ وَ آلِهٖ وَ أَنْ

 

تَغْفِرَ لَنَا مَا أَنْتَ بِهٖ مِنَّا أَعْلَمُ یَا مَنْ یَعْلَمُ

 

وَ لَا نَعْلَمُ .......

 

দ্র : মাফাতীহুল জিনান , পৃ : ২৭২ - ২৭৪

এ দুইটি পাঠ করার সিজদা করবে এবং সিজদায় ১০০ বার বলবে :

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ هَدَانَا لِمَعْرِفَتِهِ وَ خَصَّنَا

 

بِوِلَایَتِهٖ وَ وَفَّقَنَا لِطَاعَتِهٖ شُکْرَاً  شُکْرَاً 

   

এরপর সিজদা থেকে মাথা তুলে নিম্নোক্ত দুআ পড়বে :

 

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ قَصَدْتُّکَ بِحَاجَتِيْ وَ اعْتَمَدْتُّ

 

عَلَیْکَ بِمَسْأَلَتِيْ وَ تَوَجَّهْتُ إِلَیْکَ بِأَئِمَّتِيْ

 

وَ سَادَتِيْ اَللّٰهُمَّ انْفَعْنَا بِحُبِّهِمْ وَ أَوْرِدْنَا

 

مَوْرِدَهُمْ وَ ارْزُقْنَا مُرَافَقَتَهُمْ وَ أَدْخِلْنَا

 

الْجَنَّةِ فِيْ زُمْرَتِهِمْ

 

আর এ দুআটি সাইয়েদ মাব'আস দিবসের ( ২৭ রজব ) জন্যও উল্লেখ করেছেন ।

 

২৭ রজব মাব'আস দিবসের কতিপয় আমল :

 

১. গোসল

২. রোযা রাখা : এ দিবসটি সমগ্র বছরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা সম্পন্ন ৪ দিবসের অন্তর্ভুক্ত এবং এ দিনের রোযা ৭০ বছরের রোযার সমান ।

৩. বেশী বেশী দরূদ ও সালাত প্রেরণ

৪.  হযরত রাসূলুল্লাহ ( সা .) ও হযরত আমীরুল মু'মিনীন আলীর ( আ . ) যিয়ারত করা

৫. ইমাম জাওয়াদ ( আ . ) যখন বাগদাদে ছিলেন তখন তিনি ১৫ রজব ও ২৭ রজব রোযা রাখতেন , তাঁর সকল কর্মচারীরাও তাঁর নির্দেশে রোযা রাখত । আমাদেরকে

১২ রাকাত নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন রসূল্লাহ ( সা :) ঠিক এ ভাবে যে , প্রতি রাকাতে সূরা ই হামদ্ ও যে কোনো একটি সূরা পড়বে এবং নামাযের পর সূরা - ই হামদ , সূরা - ই ইখলাস এবং মুওয়াওওয়িযাতাইন ( সূরা - ই ফালাক ও সূরা -ই নাস ) প্রতিটি ৪ বার পড়বে

এরপর ৪বার পড়বে : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা হাওলা ওয়া লা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলীয়িল্ আযীম্ ।

এরপর ৪ বার পড়বে : আল্লাহ আল্লাহ রব্বী রা উশরিকু বিহী শাইয়াঁ ।

এরপর ৪ বার পড়বে : লা উশরিকু বিরব্বী আহাদাঁ

لَا أُشْرِکُ بِرَبِّيْ أَحَدَاً .

৬. এ দিন ১২ রাকাত নামায পড়া এভাবে যে প্রতি রাকাতে সূরা - ই হামদ ( ফাতিহা ) ও যে কোনো একটি সূরা পড়তে হবে দ্বিতীয় রাকাত শেষে  তশাহহুদ পাঠ  করে সালাম দিতে হবে ; এরপর বসে নিম্নোক্ত দুআটি পড়তে হবে :

আল - হামদু লিল্লাহিল্লাযী লাম্ ইয়াত্তাখিয্  ওয়ালাদাও ওয়া লাম্ ইয়াকুল্লাহু শারীকুন্ ফিল্ মুলক্ ...... ( মাফাতীহুল জিনান , পৃ : ২৭৮ দ্র:৮  )

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: