IQNA

1:21 - May 03, 2022
সংবাদ: 3471803
তেহরান (ইকনা): শাওয়াল হলো আরবি চান্দ্র বছরের দশম মাস। এটি হজের তিন মাসের (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) প্রথম মাস; এই মাসের তেহরান (ইকনা): প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ। পয়লা শাওয়ালে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা এবং ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এই মাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে হজের, এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে ঈদের, এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে রোজা ও রমজানের এবং এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সদকা ও যাকাতের। তাই এই মাস আমল ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত উর্বর ও উপযোগী।

‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা, পাত্রে অবশিষ্ট সামান্য পানি, ফুরফুরে ভাব, দায়ভারমুক্ত ব্যক্তি, ক্রোধ প্রশমন ও নীরবতা পালন, সিজন করা কাঠ। এসব অর্থের প্রতিটির সঙ্গেই শাওয়ালের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়, পূর্ণতা ফল লাভ হয়, নেকির পাল্লা ভারী হয়, গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে, ফলপ্রার্থী আল্লাহর কাছে হস্ত সম্প্রসারিত করে প্রার্থনা করে, পূর্ণ মাস রোজা পালনের পর আরও কয়েকটি রোজা রাখে, প্রাপ্তির আনন্দে বিভোর হয়, ফরজ রোজা পালন শেষে নফল রোজার প্রতি মনোনিবেশ করে, আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জন করে, পরিপক্বতা ও স্থিতি লাভ করে। এসবই হলো শাওয়াল মাসের নামের যথার্থতা।

পবিত্র এই মাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল নীচে তুলে ধরা হল: 

১লা শাওয়ালের রাতের ( রমযানের শেষ দিন ২৯ বা ৩০ রমযানের দিবাগত রাত ) আমল সমূহ :
এ রাত হচ্ছে বছরের সবচেয়ে সম্মানিত ও ফযীলতের রাত সমূহের অন্তর্গত । এ রাতের ইবাদত বন্দেগী ও রাত্রিজাগরণ ( ইহয়া ) সংক্রান্ত বহু রেওয়ায়াত ও হাদীস বিদ্যমান আছে । আর বর্ণিত হয়েছে যে এ রাতের গুরুত্ব ও মর্তবা কদরের রাতের চেয়ে কম নয় । এ রাতের বেশ কিছু আমল আছে । সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হল :
১. গোসল : রমযানের শেষ দিবসের সূর্যাস্তের সাথে সাথে গোসল করা ।
২. নামায, ইস্তিগফার এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে ১লা শাওয়ালের রাত ( ঈদুল ফিতরের রাত ) জাগরণ এবং মসজিদে রাত্রিযাপন ( বাইতূতাহ্ ) ।
৩. মাগরিব , এশা , ফজর এবং ঈদের নামাযের পর নিম্নোক্ত দুআ পাঠ : 
 
اَللّٰهُ أَکْبَرُ اللّٰهُ أَکْبَرُ لَا إِلٰهَ إِلّا اللّٰهُ وَ اللّٰهُ أَکْبَرُ اللّٰهُ أَکْبَرُ وَ لِلٌٰهِ الْحَمْدُ ، الْحَمْدُ للّٰهِ عَلَیٰ مَا هَدَانَا وَ لَهُ الشُّکْرُ عَلَیٰ مَا أَوْلَانَا 
 
আল্লাহ সবচেয়ে মহান , আল্লাহ সবচেয়ে মহান , মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ ( উপাস্য ) নেই , আল্লাহ সবচেয়ে মহান , আল্লাহ সবচেয়ে মহান , প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহরই  ; আমাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করার জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং আমাদেরকে ( জীবন ধারণ ও হিদায়তের যাবতীয় উপায় উপকরণ ও মাধ্যম ) দান করেছেন বলে তাঁরই জন্য সকল কৃতজ্ঞতা ( প্রকাশ করছি )।
৪. মাগরিবের ফরয ও নফল নামায পড়ার পর পর আকাশের দিকে হাত উঠিয়ে নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করা : 
 
یَا ذَا الْمَنِّ وَ الطَّوْلِ یَا ذَا الْجُوْدِ یَا مُصْطَفِيَ مُحَمَّدٍ وَ نَاصِرَهُ صَلِّ عَلَیٰ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اغْفِرْ لِيْ کُلَّ ذَنْبٍ أَحْصَيْتَهُ وَ هُوَ عِنْدَکَ فِيْ کِتَابٍ مُبِیْنٍ .
 
এরপর সিজদায় গিয়ে ১০০ বার সিজদায় বলা : " أَتُوْبُ إِلَی اللّٰهِ আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি । "
এরপর যে হাজত ( মনস্কামনা ও প্রয়োজন ) থাকলে তা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ ঐ হাজত পূরণ ও প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন । শেখের রিওয়াতে আছে : মাগরিবের ফরয নামাযের পর সিজদায় গিয়ে বলা :
 
یَا ذَا الْحَوْلِ یَا ذَا الطَّوْلِ یَا مُصْطَفِیَاً مُحَمَّدًا وَ نَاصِرَهُ صَلِّ عَلَیٰ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اغْفِرْ لِيْ کُلَّ ذَنْبٍ أَذْنَبْتُهُ وَ نَسِيْتُهُ أَنَا وَ هُوَ عِنْدَکَ فِيْ کِتَابٍ مُبِیْنٍ.
 
হে শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী হে দানশীল , হে হযরত মুহাম্মদকে ( সা ) মনোনীত কারী এবং তাঁর সাহায্য কারী , আপনি হযরত মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের আলের ( অতিনিকটাত্মীয় ও রক্তজ বংশধর গণ অর্থাৎ আহলুল বাইত ) উপর দরূদ প্রেরণ করুন এবং প্রতিটি গুনাহ যা আমি করেছি এবং যা আমি ভুলে গিয়েছি অথচ আপনার কাছে স্পষ্ট বিবরণ সহ একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ও বিদ্যমান আছে তা আমাকে মাফ ( ক্ষমা) করে দিন । এরপর ১০০ বার বলা : أَتُوْبُ إِلَی اللّٰهِ আমি মহান আল্লাহর কাছে তওবা করছি ।
৫. ইমাম হুসাইনের (আ) যিয়ারত করা যার অত্যন্ত ফযীলত ও সওয়াব আছে এবং যিয়ারত অধ্যায়ে এ রাতে ইমাম হুসাইনের (আ) বিশেষ যিয়ারত ও দুআ বর্ণিত হয়েছে ।
৬. ১০ বার یَا دَائِمَ الْفَضْلِ  عَلَی الْبَرِیَّةِ ... এ দুআ পাঠ করা যা জুমার রাতের আমলসমূহে বর্ণিত হয়েছে ।
৭. ১০ রাকাত নামায পড়া যা রমযান মাসের শেষ রাতের আমলসমূহে বর্ণিত হয়েছে ।
৮. দু রাকাত নামায পড়া তার প্রথম রাকাতে সূরা-ই ফাতিহার পর সূরা-ই ইখলাস ১০০০ বার এবং ২য় রাকাতে সূরা-ই ফাতিহার পর ১বার সূরা -ই ইখলাস পড়া  এবং নামায শেষ করার পর সিজদায় মাথা রেখে ১০০ বার أَتُوْبُ إِلَی اللّٰهِ (আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করছি ) বলা ; এরপর বলা : 
 
یَا ذَا الْمَنِّ وَ الْجُوْدِ یَا ذَا الْمَنِّ وَ الطَّوْلِ یَا مُصْطَفِیَ مْحَمَّدٍ صَلَّی اللّٰهُ غَلَیْهِ وَ آلِهِ صَلِّ عَلَیٰ مُحَمَّدٍ وَ آلِهِ وَ افْعَلْ بِيْ کَذَا وَ کَذَا 
 
হে মঙ্গল কারী ও দানশীল হে মঙ্গলকারী ও দয়াকারী , হে মুহাম্মাদকে( সা : মহান আল্লাহ তাঁর ও তাঁর আলের ওপর দরূদ প্রেরণ করুন ) মনোনীত কারী , হযরত মুহাম্মদ এবং তাঁর আলের ওপর দরূদ প্রেরণ করুন এবং আমার ব্যাপারে অমুক অমুক প্রয়োজন পূরণ করে দিন । " আর অমুক অমুক প্রয়োজন পূরণ করে দিন " এ বাক্যের স্থলে নিজের হাজত ( মনস্কামনা ও প্রয়োজন)পূরণ করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা .....
৯. ১০ রাকাত নামায যার প্রতি রাকাতে সূরা-ই ফাতিহা , আয়াতুল কুরসি এবং তিন বার সূরা -ই ইখলাস পাঠ করা । উল্লেখ্য এই নামায আদায় কারী প্রতি রাকাতের জন্য ৪০ বছর ইবাদতের সওয়াব এবং ঐ মাসে যে কেউ রোযা রেখেছে ও নামায পড়েছে তার ইবাদতের
সওয়াব পাবে । 
১০. এ রাতের শেষে গোসল করে জায়নামাযে ফজরের ওয়াক্ত 
হওয়া পর্যন্ত বসে থাকা ।
সূত্র : মাফাতীহুল জিনান 
অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত করন : ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওলায় মুসলিমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
১লা শাওওয়াল ,১৪৪৩ হি .

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: