IQNA

নামাজ এবং পরিত্রাণপ্রাপ্তদের মধ্যে সম্পর্ক

20:34 - May 15, 2022
সংবাদ: 3471856
তেহরান (ইকনা): নামাজ এবং ইকামাতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে «حیّ على الفلاح» ( “হাইয়্যা আ'লাল ফালাহ্”/ তোমরা সাফল্যের দিকে ছুটে এসো)। এখানে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, নামাজ কি মানুষকে “সাফল্য ও পরিত্রাণ” দিতে পারে এবং কীভাবে তা সম্ভব?

পবিত্র কুরআনে «فلاح» শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন: সূরা মু’মিনূনের বলা হয়েছে:


«قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ»


নিঃসন্দেহে সফলকাম হয়েছে বিশ্বাসীরা। সূরা, মু’মিনূন, আয়াত ১
সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:


«أُولئِكَ عَلى هُدىً مِنْ رَبِّهِمْ وَ أُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ»


তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে তারাই সফলকাম। সূরা বাকারা, আয়াত ৫
সূরা তাহা’য় বলা হয়েছে:


«... قَدْ أَفْلَحَ الْیَوْمَ مَنِ اسْتَعْلى»


নিঃসন্দেহে আজ যে প্রভাবশালী থাকবে সে-ই সফল হবে। সূরা তাহা, আয়াত ৬৪
এসকল আয়াতসমূহ فلاح )ফালাহ (বলতে সৌভাগ্য এবং বিজয় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
সবাই সহজাতভাবে তথাকথিত "সুখ"-এ হারিয়ে গেছে এবং এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে এটি খুঁজছে না।
মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও সুখ হল আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা এবং সেখানে পৌঁছানোর উপায় হল আল্লাহর প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং তাঁর আনুগত্য করা। কিন্তু এইভাবে বস্তুগত জীবনের প্রয়োজনীয়তা মানুষের হাত-পা বন্ধ করে দেয় এবং তাকে পরিপূর্ণতার দিকে অগ্রসর হতে বাধা দেয়।
মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন চূড়ান্ত পরিপূর্ণতায় পৌঁছানোর জন্য।
এইসব কষ্ট থেকে মানুষকে বাঁচানোর সর্বোত্তম উপায় হল মহান আল্লাহর যিকির এবং নামাজ হলো আল্লাহর যিকির এবং তাকে স্মরণ করার সর্বোত্তম মাধ্যম। আর একারণেই বলা হয় যে, “নামাজ সমৃদ্ধি ও মুক্তির কারণ"। এর অর্থ এই যে, নামাজ মানুষকে কুলশিত ও বস্তুগত জিনিসপত্র এবং শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশের পথে এবং মানব জীবনের মূল পথে হেদায়েত করতে পারে।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন:


«...إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهى عَنِ الْفَحْشاءِ وَ الْمُنْكَرِ وَ لَذِكْرُ اللهِ أَكْبَرُ»


নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দ কর্ম হতে বিরত রাখে; আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫


: «وَ أَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِی»

এবং আমার স্মরণার্থে নামায প্রতিষ্ঠা কর। সূরা তাহা, আয়াত ১৪।

সূত্র: মোহাম্মদ তাক্বী মেসবাহ ইয়াজদি’র (1935-2021) “তোমার দিকে” নামক শীর্ষক গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি করা হয়েছে। মোহাম্মদ তাক্বী মেসবাহ ইয়াজদি একাধারে আইনবিদ, দার্শনিক, মুফাস্সিরে কুরআন এবং ইরানের কোন নগরীর হাওযায়ে ইলমিয়ার একজন চিন্তাবিদ ও অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ইসলামের উপর অনেক কাজ এবং তাফসির দর্শন, আখলাক ও মায়ারেফে ইসলামীর বিষয়ে অসংখ্য বই লিখেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha