
মুসলিমদের কাছে জাবালে নুরের ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং তা মক্কার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার অন্যতম বলে জানান মক্কার ইতিহাস কেন্দ্রের পরিচালক ড. ফাওয়াজ দাহাস।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে তা হেরা পর্বত নামে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে এর নাম জাবালে নুর বা আলোর পর্বত করা হয়। কারণ এখানেই পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল। ’
জাবালে নুরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল-আজহারি বলেন, জাবালে নুরের ওপর স্থাপিত লেজার লাইটে প্রজ্বলিত পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতটি দর্শনার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি করেছে। তা দেখে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় আধ্যাত্মিক আবহ, ভক্তি ও শ্রদ্ধা।
দর্শনার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে ইসলামের ঐতিহাসিক স্থানগুলো আরো আকর্ষণীয় করাই সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে বর্তমান সময় উপস্থাপনের মাধ্যমে মহানবীর ইতিহাসকে দর্শনার্থীদের কাছে পরিচিত করাই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে সাংস্কৃতিক ও পর্যটন স্পট ছাড়াও থাকবে রিভিলেশন গ্যালারি ও হলি কোরআন মিউজিয়াম।
এরই অংশ হিসেবে সাময়া ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির মাধ্যমে মক্কায় মিউজিয়াম অব রিভিলেশন ও মিউজিয়াম অব মাইগ্রেশন দুটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া মক্কার রয়েল কমিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ৬৭ হাজার বর্গমিটারের চেয়েও বড় স্থানজুড়ে হিরা সাংস্কৃতিক জেলা প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। জাবালে নুরের বাসিন্দা মুহাম্মদ আল-হুসাইনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা স্থাপনাগুলো সুসংগঠিত হবে। আমরা পুরো প্রকল্পের সমাপ্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তা আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাবে। ’
সূত্র : আরব নিউজ