
এমন একটি সময়ে যখন প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের নৈতিকতা এবং আচরণকে প্রভাবিত করছে, তখন মানুষ ও সমাজকে চারিত্রিক উন্নতির দিকে পরিচালিত করে এমন শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পিতামাতা এবং শিক্ষকদের মধ্যে জনপ্রিয় শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম একটি হল; কর্মের পরিণতিগুলির সাথে সন্তানকে পরিচিত করা। এই পদ্ধতিটি দুটি উপায়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে:
প্রথমত, শিক্ষক তার শিক্ষার্থীর কর্মের পরিণতি সম্পর্কে এমনভাবে অবহিত করে যাতে সে হতাশ না হয় বা তার আত্মসম্মানের ক্ষতি না হয়।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষক যেন তার ছাত্রকে নিষেধ করে ছেড়ে দেন; যাতে শিক্ষার্থী নিজেই তার কাজের পরিণতির মুখোমুখি হয় এবং এর জন্য দায় স্বীকার করে।
আল্লাহ তা’আলা হলেন এই বিশ্বজগতের একমাত্র শিক্ষক যিনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং মানুষ একাধিকবার অভিজ্ঞতা সঞ্চারের মাধ্যমে বিষয়টিকে উপলব্ধি করছে। যেমন- মানুষ যখন কোন দুর্যোগে আক্রান্ত হয়, তখন সে সর্বদা ভাবতে থাকে কেন তার প্রতি অবিচার হয়েছে এবং কার দ্বারা এমনটি হয়েছে? যদিও কুরআনে বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তির উপর কোন বিপর্যয় আসে, তবে তা তার অযোগ্য কর্মের কারণে।
ما أَصابَکَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَ ما أَصابَکَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِکَ
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। (সূরা নিসা, আয়াত ৭৯)
একারণে, আল্লাহ তাদের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করে বলেন,
وَ مَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَ لَاكِن كَانُواْ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُون
আল্লাহ তাদের প্রতি অবিচার করেননি; কিন্তু তারা স্বয়ং নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। (সূরা নাহল, আয়াত ৩৩)
হজরত ইবরাহীম (আ.), যিনি উলুল আযম নবীদের একজন এবং যার সম্বন্ধে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, তিনিও এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। মুশরিকদেরকে তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে তিনি বলেন:
وَ كَيْفَ أَخافُ ما أَشْرَكْتُمْ وَ لا تَخافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُمْ بِاللَّهِ ما لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطاناً فَأَيُّ الْفَريقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ
(ইবরাহীম বলল) যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক। (সূরা আনআম, আয়াত ৮১)
মূলতঃ হজরত ইবরাহীম (আ.) মুশরিকদেরকে তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করে বলেন: তোমরা আমাকে এমন কিছুকে ভয় করতে বলছ যার ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই, অথচ যাকে (আল্লাহকে) ভয় করা উচিত তাকে তোমরা ভয় করছ না।
ইবরাহীম (আ.) উপহাসের মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করেছে যাতে তারা যদি তাদের শিরককে ধারাবাহিকতা দিয়ে যায় এবং আল্লাহকে ভয় না পায়, এই কাজ তাদেরকে আযাব ব্যতীত কোন সুপরিণতি এনে দিতে পারবে না।